মান্নার সমঝোতার আসনে বিএনপির প্রার্থীও আছেন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ

বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন দলের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, কিন্তু সে আসনে বিএনপির প্রার্থীও রয়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মীর শাহে আলমের চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমার আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়ে গেছেন। এখন কোনও সমাধানের সুযোগ নেই। তারা তাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমাকে ‘ইগনোর’ করেছে।

এদিন ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। মাহমুদুর রহমান মান্না ও মীর শাহে আলম ছাড়াও এই আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থীর তথ্য দিয়েছে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর।

এই আসনে চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে অন্যরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর আবু কালাম শাহাদাতুজ্জামান, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু।

বগুড়া জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া-২ আসনে শাহে আলম বিএনপি থেকে একাই প্রার্থী। ফলে ওনার নতুন করে আর দলীয় প্রত্যয়নপত্রের প্রয়োজন নাই। যেখানে একাধিক প্রার্থী থাকে, সেখানে একজনকে বাদ দেওয়ার জন্য দলীয় প্রত্যয়নপত্রের প্রয়োজন হয়।

গেল ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ১০ নেতার তালিকা প্রকাশ করে তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা বলেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই ১০ জনের মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী মান্নার নামও বলেছিলেন বিএনপি মহাসচিব।

এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্না বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিন্তু আমি তো রাজনীতি করবো, রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচনও করবো।”

তিনি বলেন, “আমি জানতাম, সমঝোতার ভিত্তিতে বগুড়া-২ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না বিএনপি।”

এ বিষয়ে জানতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানও ব্যস্ত থাকার কথা বলে মন্তব্য করতে চাননি।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়েন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। বিষয়টি হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করায় উচ্চ আদালতের আদেশে প্রার্থী হওয়ার পথ খোলে তার।

তবে ২ জানুয়ারি স্বাক্ষর জটিলতায় বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, পরে আপিলে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

সে সময় শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখন থেকেই ভোটারদের মনে সংশয় ছিল পরবর্তী সময়ে তাকে প্রত্যাহার করে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে।

কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত তা করা হয়নি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেউ প্রত্যাহার করেননি।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তাজুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি মনোনীত চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মীর শাহে আলমই আছেন। বুধবার সকাল ১০টায় বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।”

মীর শাহে আলম বলেন, “দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। জোটকে কেন দিল না, তা দলই বলতে পারবে। দলকে বিজয়ী করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করবো।”

এদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান ঢাকা-১৮ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: কবীর হাসান বলেন, নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের চূড়ান্তভাবে ১১ জন প্রার্থী লড়বেন। মাহমুদুর রহমান মান্না ছাড়া অন্যরা হলেন, রংপুর-৫ আসনে মোফাখখারুল ইসলাম নবাব; জামালপুর-৪ আসনে মো: কবীর হাসান; সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মো. নাজমুস সাকিব; পাবনা-৪ আসনে শাহনাজ রানু; চট্টগ্রাম-৯ আসনে স্বপন মজুমদার; চাঁদপুর-২ আসনে এনামুল হক; কুড়িগ্রাম-২ আসনে আব্দুস সালাম; রাজশাহী-২ আসনে মোহাম্মদ সামছুল আলম; লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

সূত্র: বিডিনিউজ।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh