ভূমধ্যসাগরে জাহাজডুবিতে কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ ও নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

ভূমধ্যসাগর পার হতে গিয়ে গত ১০ দিনে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক জাহাজডুবির ঘটনায় কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন অথবা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা।

সোমবার এক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এক বিবৃতিতে বলেছে, “চূড়ান্ত সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক বেশি হতে পারে, যা কঠোরভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এই রুটটি এখন বিশ্বের অভিবাসন করিডোরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী।”

সংস্থাটি জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স থেকে রওনা হওয়া একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের মধ্যে এক বছর বয়সী দুই যমজ শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয় ইতালির ল্যাম্পেডুজা দ্বীপে।

ওই যজম শিশু দুটির গিনিয়ান মা বেঁচে গেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশু দুটি হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। একই কারণে একজন পুরুষেরও মৃত্যু হয়েছে বলে আইওএমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

আইওএম জানায়, এই নৌকার বেঁচে যাওয়া আরোহীরা জানিয়েছেন স্ফ্যাক্স থেকে তাদের সঙ্গে আরেকটি নৌকা রওনা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর আসেনি আর তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তাও অজানা রয়ে গেছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় হ্যারির কারণে ভূমধ্যসাগর উত্তাল হয়ে আছে, এরমধ্যে গত ১০ দিনে বেশ কয়েকটি নৌকা নিরুদ্দেশ হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে, এতে কয়েকশ মানুষ আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানোর প্রচেষ্টাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা ডুবে যাওয়া আরেকটি নৌকার বেঁচে যাওয়া আরোহীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখছে। মাল্টার কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এই আরোহীদের উদ্ধার করে। আর নৌকাটির ৫০ আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন অথবা মারা গেছেন।

পৃথক আরেক ঘটনায় লিবিয়ার বন্দর শহর তব্রুকের উপকূলে আরেকটি জলযান ডুবির ঘটনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, জানিয়েছে আইওএম।

সংস্থাটি বলেছে, “সমুদ্র যাত্রার জন্য উপযুক্ত নয় এমন নৌকায় অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা ফৌজদারি অপরাধ। এই অঞ্চলে তীব্র একটি ঝড় চলার সময় লোকজনকে পার করার এই আয়োজন বিষয়টিকে আরও নিন্দনীয় করে তোলে, কারণ মানুষকে জেনেশুনে সমুদ্রে পাঠানো হয়েছিল যেখানে এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় নিশ্চিত ছিল।”

আইওএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর (২০২৫) ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১৩৪০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh