সব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে অনুমোদনহীন একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আরো কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলায় একটি ‘র্যাট-হোল’ খনিতে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জেলার ডেপুটি কমিশনার মনীশ কুমার রয়টার্সকে জানান। র্যাট-হোল খনি বলতে এমন সরু সুড়ঙ্গযুক্ত খনিকে বোঝায়, যেখানে শ্রমিকরা কেবল হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতে পারেন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে একসময় র্যাট-হোল খনন ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। তবে প্রাণহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে ২০১৪ সালে এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়।
ডেপুটি কমিশনার জানান, স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে খনির ভেতরে পৌঁছনোর চেষ্টা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আরো আটজন আহত হয়েছেন।
খনিটির অবস্থান দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান কুমার। তিনি বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে এবং তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করতে অফ-রোডে কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হবে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘মেঘালয় সরকার এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দায় নির্ধারণ করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অবৈধ খনন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কংরাড সাংমা কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
হতাহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রত্যেককে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ভারতের পূর্ব ও উত্তরপূর্ব অঞ্চলে অনুমোদনহীন খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনের ঘটনা বেশ স্বাভাবিক, এখানে কাজ করা শ্রমিকরা প্রতিদিন ১৮ থেকে ২৪ ডলারের মতো আয় করেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম ও মেঘালয়ে অবৈধ র্যাট-হোল খননে মোট ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স