চতুর্থবার সরকার গঠনের পথে বিএনপি, ৪০ সদস্যের মন্ত্রিসভা প্রায় চূড়ান্ত

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

বিপুল বিজয়ের পর চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে আবার দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত হচ্ছে দলটি। সবার নজর এখন তার প্রথম মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন সেই দিকে।

এ নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল ও জল্পনার মধ্যে সেই তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন হবু প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীদের সংখ্যা ৪০ জনের আশপাশে থাকার তথ্য মিলেছে; যাদের নিয়ে চব্বিশের আন্দোলনের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে দেশ গড়তে চান তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার।

এর একদিন আগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ইঙ্গিত মিলেছে শুরুতে আগের চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট মন্ত্রিসভা হচ্ছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে মন্ত্রিসভা ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে। তবে কোনো নেতা এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের আবাসনের জন্যও সমানসংখ্যক বাসা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এ সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি।নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান। ছবি: রয়টার্স

দেড় যুগের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি ও শরিক দলের নেতারা। তাদের অনেকে তার মন্ত্রিসভায় থাকছেন বলে আলোচনা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, “এ মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন আর কে থাকবেন না- তা শুধু প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। ফলে এখনই কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কারা মন্ত্রিসভায় যাচ্ছেন।”

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার গঠন, সরকারে কে কোন দায়িত্বে থাকবে এসব নিয়ে দলের চেয়ারম্যান কাজ করছেন। আমি কোনও নামের বিষয়ে জানতে পারিনি।”

সোমবার বিকাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কোনো ফোন কলও আসেনি, যোগ করেন তিনি।

সরাসরি দলের ফোরামে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন কিংবা জাতীয় সরকার গঠন বা শরিকদের কারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন তা নিয়ে আলোচনা না হওয়ার তথ্য দিচ্ছেন নেতারা।

তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সরকার গঠন নিয়ে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান এবার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে সম্পৃক্ত করবেন বলে দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ দায়িত্বে নজরুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে।

দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব পদে দলের একজন যুগ্ম মহাসচিবকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টি জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমান নতুন সরকারপ্রধান হচ্ছেন। বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসছেন তিনি, ঠিক যেমন একসময় তার বাবা-মা দিয়েছিলেন।

তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি, যার হাত ধরে ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। মা খালেদা জিয়া তিনবারে ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। চার দশকের বেশি সময় তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দুই দশক পর আবার চতুর্থবার দেশ পরিচালনায় আসছে ৪৮ বছরের পুরনো দলটি। বাবা-মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম দায়িত্বে তিনি জাতীয় সরকার গঠন করবেন কি না সেই আলোচনাও রয়েছে।

নির্বাচিতদের সঙ্গে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজন জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। এ কোটায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর কেউ যুক্ত হচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করছেন না কেউ।

সোমবার বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, “বিএনপির সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।”

নতুন সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন- এমন প্রশ্নে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “এসব নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আগামীকালই (মঙ্গলবার) সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করবেন।

জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু থাকছেন মন্ত্রিসভায়। তারা স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও সম্প্রচার, গণপূর্ত, বস্ত্র ও পাট, বিমান ও পর্যটন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

অর্থ, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, জনপ্রশাসন ও শিল্পের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আব্দুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর (টেকনোক্র্যাট কোটা) ও সদস্য রেজা কিবরিয়াকে দেখা যেতে পারে বলে নাম এসেছে।

আইন, সড়ক পরিবহন, কৃষি, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আমান উল্লাহ আমান, নওশাদ জমির, এহসানুল হক মিলনের নাম রয়েছে আলোচনায়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এজেডেএম জাহিদ হাসেন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নিতাই রায়, শামা ওবায়েদের নাম রয়েছে আলোচনায়।

ধর্ম, পানিসম্পদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রাণী ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, লুৎফুজ্জামান বাবর, জয়নাল আবদিন ফারুকের নাম এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ফজলুর রহমানের নাম আলোচনা হচ্ছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য তিনি পাননি।

গণতন্ত্র মঞ্চের শরিকদের মধ্যে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ববি হাজ্জাজ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের নামও আলোচনায় এসেছে।

সংসদকে সক্রিয় করে জবাবদিহিমূলক সরকার চালাতে চান তারেক রহমান। সংসদ উপনেতার পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম শোনা যাচ্ছে।

২০০১ সালে সরকার গঠনের পর অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সংসদ উপনেতা করেছিলেন খালেদা জিয়া।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের অপেক্ষা। আজ শপথের মধ্য দিয়ে সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন নেতারা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh