ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক : আইএমএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে বর্তমানে ‘বেশ ভঙ্গুর’ বলে বর্ণনা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশটিতে চলমান তিন অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে আইএমএফের মুখপাত্র জুলি কোজ্যাক জানান, ২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে আইএমএফের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও সংস্থাটি দেশটির উন্নয়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর নির্দেশনা ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

২০২৬ সালে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এক গভীর কাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি সংকোচনের পর দেশটিতে এখন অভূতপূর্ব অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রেুসডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরো মার্কিন হেফাজতে থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজের অধীনে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসন দেশে স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

আইএমএফের মুখপাত্র জুলি কোজ্যাক বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা একটি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য অনেক বেশি এবং মৌলিক পরিষেবার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।’

আইএমএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সরকারি ঋণ বর্তমানে তাদের জিডিপির প্রায় ১৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এই সংস্থাটি বর্তমানে দেশটির সঙ্গে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের পর দেশটির কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হয়নি ও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আইএমএফের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক লেনদেন নেই।

ভেনেজুয়েলার এই গভীর সংকট দেশটিতে ব্যাপক অভিবাসন তৈরি করেছে। ২০১৪ সাল থেকে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে চলে গেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি। তবে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে দেশটি প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশেষ অঙ্কন অধিকার (এসডিআর) ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা সাত বছর আগে মাদুরো সরকারকে স্বীকৃতি দিতে আইএমএফের অস্বীকৃতির কারণে জব্দ করা হয়েছিল। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনে এই এসডিআরকে ডলারে রূপান্তর করতে ইচ্ছুক।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদের ওপর গভীর মনোযোগ দিচ্ছে। ট্রাম্প অতীতে ভেনেজুয়েলার তেল খাত জাতীয়করণের সিদ্ধান্তকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইতিহাসের বৃহত্তম সম্পত্তি চুরি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মাদুরোর অপসারণের পর দেশটি এখন তেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ফলে শেভরন, বিপি, এনি এবং শেলের মতো জ্বালানি জায়ান্ট কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় তেল ও গ্যাস কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া নতুন লাইসেন্সের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানিগুলো এখন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-র সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ চুক্তিতেও প্রবেশ করতে পারবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh