সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এবং লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি’র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান “International Mother Language Day – Inclusive Classroom Programme” শিরোনামে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
ব্রিটেনের মূলধারার স্কুলগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রচার ও বাংলা ভাষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ।
গত সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আশিদ আলী। তিনি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ব্রিটেনের মূলধারার স্কুলের শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষার প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দেশ ও ভাষার প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সফরও করেছেন।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারী আকরামুল হুসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে মূলধারার স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝেও বাংলা ভাষার ইতিহাস, গুরুত্ব এবং সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
আকরামুল হুসাইন তাঁর বক্তব্যে ভাষার গুরুত্ব, পরিচয়, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু ইতিহাস স্মরণ করা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপনের দিন। আজকের এই শিক্ষার্থীগণ আগামী দিনে সরকারের নীতি নির্ধারনী স্থানে কিংবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবেন। আর এই ধরনের আয়োজন তাদের কাছে বাংলা ভাষা অর্জনের ইতিহাস, ভাষার প্রতি ভাললাগা আরো বাড়াবে। আর তাই লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ব্যতিক্রমী এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উর্মী মাযহার এবং চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খান।
“বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস” বিষয়ক আলোচনায় উর্মী মাযহার বলেন, পৃথিবীতে বাংলা একমাত্র ভাষা যার জন্য বাঙালি জাতি জীবন দিয়েছে। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বুলেটের সামনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফারহান মাসুদ খান “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি” বিষয়ে আলোচনায় বলেন, ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করার মাধ্যমে ভাষার মর্যাদা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বহুভাষিকতার প্রতি বিশ্ববাসীকে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলা ভাষার ইতিহাস নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার আব্দুল হান্নান। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট ও ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিনের নেতৃত্বে ক্লাব নেতৃবৃন্দ প্রভাতফেরির গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আহাদ চৌধুরী বাবু, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার এখলাছুর রহমান পাক্কু, মিডিয়া ও আইটি সেক্রেটারি ফয়সল মাহমুদ, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ মেম্বার সরওয়ার হোসেন। এছাড়াও জেনারেল মেম্বারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম অভি, শেখ মহিতুর রহমান বাবলু, সুয়েজ মিয়া ও ফজলু মিয়া।
অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিকে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি ও প্রেস ক্লাবের স্মারক প্রদান করা হয়।