প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিলে সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলা

মারুফ হাসান, সিলেট ব্যুরো অফিস,

  • প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

# সমঝোতার রাজনীতিই হোক আগামীর পথ : ডা. শফিকুর রহমান
# সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটের সমস্যার সমাধান করা হবে : আরিফুল হক চৌধুরী

সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, সব ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ন্যায্য ভূমিকা রাখলে দেশ এগিয়ে যাবে, আর তোষামোদে জড়িয়ে পড়লে পথ হারাবে। অতীতে সিলেটের নানা সামাজিক সমস্যার সমাধানে প্রেসক্লাবের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সামাজিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি আগামীতেও অগ্রণী থাকবে।

শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী এই ইফতার মাহফিলকে ঘিরে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ পরিণত হয় সকল শ্রেণি-পেশার নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিদের মিলনমেলায়। রাজনৈতিক দল, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন অনুষ্ঠানে।

প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা ও ওকাব-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরী, এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রকিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটে নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ রায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাশিত না হলেও তারা সংঘাতের পথ বেছে নেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নে কোনো সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমকে সমাজের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিক ও সাংবাদিক—উভয়ের ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা ছাড়া সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। ‘নিউজ’ ও ‘ভিউস’-এর পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, সংবাদের ক্ষেত্রে সত্য তুলে ধরতে হবে নির্ভয়ে; মতামত দেওয়া যাবে ভিউস অংশে। তোষামোদে সরকার পথ হারায়—এ সতর্কবার্তাও দেন তিনি। সত্য প্রকাশে আপসহীন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার সাহস থাকতে হবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজ প্রগতির চালিকাশক্তি। দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকসহ সব মহলের সহযোগিতা চান তিনি। ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধ হবে না বলে পুনরুল্লেখ করেন। সিলেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় নিষ্পত্তি হয়েছে। শিগগিরই কাজ দৃশ্যমান হবে। বিমানের ফ্লাইট সংক্রান্ত সমস্যাও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেট-ঢাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানান তিনি। ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালু থাকবে উল্লেখ করে সিলেট-বার্মিংহাম ফ্লাইট চালুর আহ্বান জানান। সিলেটের উন্নয়নে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলম, সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এমএস সেকিল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বারের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাবের আইন উপদেষ্টা এমাদ উল্যাহ শহিদুল ইসলাম, শাবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, ডিজিএফআইর ডেপুটি পরিচালক আবু সাদাত মো. সায়েম, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, যমুনা অয়েল কোম্পানীর পরিচালক সালেহ আহমদ খসরু, সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, ভারতীয় হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারী রাজেশ ভাটিয়া, আটাব-এর সাবেক সভাপতি রেজওয়ান আহমদ, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমদ, বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার পুলিন রায়, জেলা বিএনপি নেতা আজমল বক্ত সাদেক, শেখ ফারুক আহমদ ও জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কলেজের অধ্যক্ষ মফিজুর রহমানসহ অনেকে।

সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, ইকবাল সিদ্দিকী, আহমেদ নূর ও ইকরামুল কবির; সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বশির উদ্দিন ও সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর; জীবন সদস্য আফতাব চৌধুরী ও শেখ ফারুক আহমদ; বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সহ-সভাপতি ফয়ছল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ ফয়সাল আমীন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন, আনাস হাবিব কলিন্স, জেরজিস ফাতেমা এবং অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, সিলেটের সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ধরে রেখে পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক সাংবাদিকতা এগিয়ে নিতে চান তারা। এ লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh