সব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ যে শনিবার সকালে তেহরানের একটি সরকারি কমপাউন্ডে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, সে তথ্য আগেই জেনে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
যুক্তরাষ্ট্র ওই তথ্য দেয় ইসরায়েলকে। এর ভিত্তিতে ইসরায়েল হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে দিনের আলোতেই আঘাত হানে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তা সেই হামলায় নিহত হন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান খামেনির কমপাউন্ডে ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে। তাতে ওই কমপাউন্ড পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
অভিযান শুরু হয় ইসরায়েল সময় শনিবার সকাল ৬টার দিকে। তেহরান সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ জঙ্গিবিমান ওড়ার দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর কমপাউন্ডে আঘাত হানে বোমা।
খামেনির অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল’ তথ্য
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং তার অবস্থান ও চলাচলের ধরন সম্পর্কে ক্রমশ নিশ্চিত হচ্ছিল।
এর ধারাবাহিকতায় সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপাউন্ডে শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেখানে উপস্থিত থাকবেন খামেনি।
সিআইএ খামেনির অবস্থান সম্পর্কে এই ‘উচ্চমাত্রার নির্ভুল তথ্য’ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, গোয়েন্দারা একটি নয়, একযোগে তিনটি বৈঠকের তথ্য শনাক্ত করেছিলেন। বৈঠকগুলো হচ্ছিল ইরানের প্রেসিডেন্সি কার্যালয়, সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয়ে।
ইসরায়েলের মূল পরিকল্পনা ছিল রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো। কিন্তু দিনের বেলায় বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে।
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান আমোস ইয়াদলিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, “সবাই অপেক্ষা করছিল, হামলা হবে মধ্যরাতে, অন্ধকারের আড়ালে। গত জুনে ইরানের ওপর আকস্মিক হামলার শুরুতেও ইসরায়েল রাতে আঘাত হেনেছিল। তবে এবার দিনের আলোয় হামলা কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করতে পেরেছে।”
শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা নিহত
ইসরায়েলের ওই হামলায় খামেনির পাশাপাশি ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানের সামরিক পরিষদের প্রধান ও খামেনির শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি শামখানি এবং বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহও নিহত হয়েছেন। ওই বৈঠকে বিপ্লবী গার্ড কোরের অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি ও ডেপুটি ইনটেলিজেন্স মিনিস্টার মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তার লেখা একটি বার্তা তারা দেখেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, “আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে সমন্বিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে, যার একটি স্থানে ইরানের উচ্চপর্যায়ের নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও কমপাউন্ডে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষকে বিস্ময়ে বিমুঢ় করে দিতে পেরেছে।
হামলার সময় জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কমপাউন্ডের একটি ভবনে ছিলেন, আর খামেনি কাছের আরেকটি ভবনে অবস্থান করছিলেন।
টার্কি টুডে লিখেছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করতে পারা ইরানি নেতৃত্ব সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গভীর গোয়েন্দা নজদারিরই সাফল্য।
একই সঙ্গে এটা ইরানি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টিও প্রকাশ্যে এনেছে, যদিও দুই দেশই যুদ্ধের প্রস্তুতির স্পষ্ট সংকেত দিয়েছিল।