নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো: প্রধানমন্ত্রী

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ

দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় আজ ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্য যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি তাঁর সরকার ও দল বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক, একটি আবেগের দিন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে তাঁর দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে তাঁরা এই কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করা হলো।

অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন চেপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি বেশ কয়েকজন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া নারীদের একজন রাশেদা। উদ্বোধনের পর তিনি অনুষ্ঠানে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আজ বাস্তবায়িত হলো। এই কার্ড নিয়ে রাজনীতি, দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভাতা পাবে। ভাতার টাকা যাবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তাঁরা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।

কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh