সব
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় একটি পরিবারের ওপর মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি।
জানা যায়, গত ১৮ মার্চ আনুমানিক বিকাল ৩ ঘটিকার সময় একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ওই পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পাশে ছিলেন তার চাচাতো ভাই নাইমুর রহমান ও মা। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ওই পরিবারকে ঘিরে পূর্ববর্তী বিভিন্ন হুমকি ও সামাজিক চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বয়কট করার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক মতবিরোধের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উত্তেজনাও তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে পরিবারের এক সদস্যের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে নিয়মিত হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন বলে দাবি তাদের।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভুক্তভোগীর স্বামীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে পরিবারের বর্তমান অবস্থান ও ঠিকানা গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সামগ্রিকভাবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠছে।