বৃহত্তর সিলেটের কৃতি সন্তান সাবেক সচিব  ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.  আই. চৌধুরী আর নেই

মতিয়ার চৌধুরী,

  • প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব (তথ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়), সাবেক মহাপরিচালক বাংলাদেশ বেতার, সাবেক চেয়ারম্যান এসএসডিএফ  ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এম.আই.চৌধুরী (রনু মিয়া চৌধুরী) আর নেই।  (ইন্না…লিল্লাহি.. রাজি..উন)। অদ্য ২২ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশ সময় সকাল ৭:৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মরহুমের নামাজে জানাজা আজ বুধবার  বাদ মাগরিব রাজধানীর মিরপুর রুপনগর আবাসিক এলাকার সেন্ট্রাল জামে মসজিদে অনুস্টিত হবে। পরবর্তিতে তাঁকে গ্রামের বাড়ী সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার গচিয়া গ্রামের  জমিদার পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হবে। তাঁর আসল নাম মহিবুল ইসলাম চৌধুরী হলেও সকল মহলে তিনি এম.আই. চৌধুরী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  তিনি ১৯৪৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের জেলার দিরাই উপজেলার গচিয়া  জমিদার পরিবারের জন্ম গ্রহন করেন । তাঁর পিতার নাম  গোলাম মাসুদ চৌধুরী। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এম. আই. চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ও সমাজসেবী। তিনি প্রতিবেশীদের সুখ-দুঃখে সর্বদাই ছিলেন নিবেদিত।

তিনি  গ্রামের পাঠশালায় শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৬০ সালে দিরাই হাইস্কুল থেকে মেট্রিক, ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ. ডিগ্রি লাভ করেন। এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আই চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালীন  সময়ে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেন । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে প্রাদেশিক সিভিল সার্ভিস প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৬৭ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসাবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালে  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন  কর্মস্থল চট্রগ্রাম থেকে  মহান মুক্তিযুদ্ধে  অংশ নেন।  দেশ স্বাধীনের পর  তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে সচিব হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

এম. আই. চৌধুরী অবসর জীবনে নিজকে  সমাজসেবায় নিয়োজিত করেন।   নিজ এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে শামসুদ্দিন সিকান্দার উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা করেন।  তিনি সরকারের এনজিও খাতকে শক্তিশালী করণে বহুবছর কাজ করে গেছেন।  এছাড়া জনাব এম. আই. চৌধুরী ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকার সহ-সভাপতি,সুনামগঞ্জ সমিতি,ঢাকার সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে  দেশে বিদেশে আত্মীয়-স্বজন এলাকাবাসী সকলের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh