জাবিতে প্রক্টর অফিসের পর রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবিতে এবার রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রমাণ।

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আদৃতা রায় বলেন, ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের কোনো খবর নেই। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা। এ দাবিতে চাপ সৃষ্টি করতেই রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা ভবনে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার রাত ১১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় দিয়ে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

এ ঘটনার পরের দিন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

দাবি আদায়ে বুধবার থেকে প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে তারামন বিবি হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে রাতভর সেখানে অবস্থান করেন বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, আল্টিমেটামের সময় শেষ হলেও প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রক্টর অফিসে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

আন্দোলনকারীরা তখনই ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হলে পরদিন রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা দেওয়া হবে।

এদিকে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধর্ষণচেষ্টা ও প্রাণনাশ চেষ্টার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh