চট্টগ্রামে র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা, রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় র‍্যাবের একটি ক্যাম্পে গভীর রাতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ঠেকাতে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়।

রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। র‍্যাব জানিয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেছেন। হামলার জন্য ‘সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন বাহিনীকে দায়ী করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‍্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়েন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে দেওয়া হয়। এরপরও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযানের সময় কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে গেলেও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা কামাল হোসেন নিজের ফেসবুক আইডিতে অভিযানের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহন প্রবেশ ঠেকাতেই সন্ত্রাসীরা এ কৌশল নেয়।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, রাস্তা কেটে ফেলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। যেখানে রাস্তা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, সেখানে গাড়ি রেখে হেঁটে অভিযান চালাতে হয়।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাহাড়ঘেরা এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এলাকাটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে।

গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের পর সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয় সরকার। এর অংশ হিসেবেই আলীনগরে র‍্যাব ক্যাম্প স্থাপনের কাজ চলছিল।

এর আগে পরিচালিত অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের আগে আলীনগর এলাকা ইয়াসিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh