সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
লন্ডন ১৬ জুন :
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি ও মিডিয়ার সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি’র জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়।বিলেতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের অবদান অনেক। একটি অভিবাসী কমিউনিটি হিসেবে প্রবাসে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা সহজ কাজ নয়। অথচ এ কমিউনিটির অসংখ্য অর্জন ও সফলতার গল্প অনেক সময় নীরবে চাপা পড়ে যায়। আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি কমিউনিটি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, মানবিক ও জনহিতকর কর্মকাণ্ডে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে।
মংগলবার ১৬ জুন পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে এস টেলিভিশনের হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামালের যৌথ উপস্থাপনায় বৃষ্টল জামে মসজিদের ইমাম আজিজুর রহমান খানের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বইটির লেখক ও আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর পুত্র তাহমিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাবার জীবনী লিখতে গিয়ে তাঁর জীবনের অনেক অজানা অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যা তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বইটিতে তার বাবা আহমেদ উস সামাদের শৈশব থেকে শুরু করে দেশ ও প্রবাস জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো স্থান পেয়েছে। প্রতিটি পাতায় রয়েছে স্বপ্ন, আশা এবং দেশ ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার গল্প।
বইটির সম্পাদক তৌহিদ শাকিল, লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ফাউন্ডার সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাসন বই ও আহমেদ উস সামাদের জীবন-দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বইটির বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন ড. জাকি রিজওয়ানা আনোয়ার। তিনি বলেন, আহমেদ উস সামাদ শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন; তিনি একজন আপাদমস্তক মিডিয়ার মানুষ। তাঁর নেশা ও পেশা উভয়ই মিডিয়াকে ঘিরে। কমিউনিটি, গণমাধ্যম এবং সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের সাবেক এমপি কিথ বেস্ট, প্রফেসর শাহাগীর বগত ফারুক, বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা জামিল চৌধুরী এবং লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা ও লেখক মুকিম আহমদ, বিবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রানু জেপি, বশির আহমেদ বিইএম,চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহি ফেরদাউস জলিল,
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওলি খান এমবিই, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ব্রিস্টল, বাথ অ্যান্ড ওয়েস্ট-এর সভাপতি আইনুল ইসলাম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্ট্র্যাটেজিক এডভাইজার মোহাম্মদ জুবায়ের, গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের সভাপতি সালেহ আহমদ, ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক মেয়র কাউন্সিলর আতিকুল হক, বিসিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, জনমত প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বেলাল আহমদ ও এমদাদুল হক চৌধুরী, কার্ডিওলজিস্ট ডা. মনজুর শওকত, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ড. হাসান শহীদ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি আকরাম হুসাইন,ট্রেজারার আব্দুল হান্নান এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের ড. এএসএম আশরাফ মাহমুদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
নিজের বক্তব্যে আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, “জীবনে সর্বদা চেষ্টা করেছি কমিউনিটি, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে। ব্রিস্টল বাংলাদেশ সেন্টার থেকে শুরু করে শাহজালাল মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে পরিবারের সহযোগিতা ও কমিউনিটির ভালোবাসা পেয়েছি। আর তাই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি কাজ করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনের একটি মূল্যবান সময় কেটেছে ব্রিস্টলে। দেশের যে কোনো প্রয়োজনে আমি ছুটে গিয়েছি এবং নিজের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।” এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ও তাঁর বড় ভাই মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী’র অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “গত ৫৪ বছরে তিনি যেভাবে অর্থনীতি, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং মিডিয়ায় অবদান রেখেছেন, তা বলে শেষ করা যাবে না। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করি।”
ব্রিটিশ সরকারের সাবেক এমপি কিথ বেস্ট তাঁর বক্তব্যে আহমেদ উস সামাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণ করেন এবং ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’ গ্রন্থের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এই বইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।” এ জন্য তিনি বইটির লেখক ও সম্পাদককে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন বলেন, “গত ৫০ বছরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী’র অবদান অনস্বীকার্য। আমি বিশ্বাস করি, তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠানটি ছিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাস, অবদান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য মিলনমেলা, যেখানে আহমেদ উস সামাদের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি সম্মান ও স্বীকৃতি জানানো হয়।
বিশেষ তত্বাবধানে ছিলেন প্রকাশনা সাব কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জুবায়ের, মিছবাহ জামাল, বারিষ্টার তারেক চৌধুরী, তৌহিদ শাকিল, এলবি২৪ টিভির ফাউন্ডার শাহ ইউসুফ, এলবি২৪ এর ম্যানেজিং এডিটর সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, আকরামুল হোসেন, গবেষক ফারুক আহমেদ, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন, এলবি২৪ দর্পন সম্পাদক রহমত আলি, দর্পন সম্পাদক মুহিব উদ্দিন চৌধুরী, চানেল এস সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার এডিটর রুপি আমিন, নতুন দিন অনলাইন এডিটর পলি রহমান, কবি হাফসা ইসলাম, এম আলাউদ্দিন, চানেল এস চীফ রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা, লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির কেরিয়ার এডভাইজার মুহি মিকদাদ বাংগালী কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, নিলুফার হাসান,বিশিষ্ট টিভি উপস্হাপিকা উর্মি মাজহার, ছড়াকার দিলু নাসের, বারিষ্টার নাজির আহমদ, বারিষ্টার মাসুদ চৌধুরী, সিলেট এমসি কলেজের সাবেক প্রফেসর, প্রিন্সিপাল সুধাংশু শেখর তালুকদার, ফ্রেন্ডস অব নাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল সিলেটের জেনারেল সেক্রেটারি মনসুর আহমদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, ডোনার মেম্বার আব্দুল মুহিত চৌধুরী, আলি সাদেক শিপু, ওয়াজিদ হাসান সেলিম বিইএম, মতিউর রহমান খোকন, মুহাম্মদ ওয়ারিছ আলী, মোহাম্মদ আবুল লেইস, ইমানি চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী, প্রফেসর মিসবাহ কামাল, আশরাফ চৌধুরী জাহান মিয়া, ডা. ফারজানা মালিক, মিসেস ফাতেমা চৌধুরী, রওশন চৌধুরী, তাহমিনা মান্নান, ডানি চৌধুরী, আদিল চৌধুরী, ড: এম এ লেইস, মিরু তানভীর, মুহিব রহমান, মিসেস কামিলা রহমান, আংগুর আলি,দিলওয়ার হোসেন,মুহিব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলার মতিনুজ্জামান, কায়েস চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন, তোফায়েল আহমেদ, সালমা আহমেদ, নাহিদা মিছবাহ, মিতা, সাঈদ তুহিন চৌধুরী, মাহিদুর রহমান, ডাঃ জামাল উদ্দিন, বারিষ্টার ইসলাম উদ্দিন, শাহেদ রহমান, এ আজিজ কবির খলকু, উদয় শংকর দূর্জয়, কাজল রশীদ, সাইদুল খালেদ, শফিক ইসলাম, কাউন্সলার সৈয়দ বাশার, এ কে আজাদ ছোটন, নাজিম আহমদ, কাউন্সিলার ফারুক, শাহেদ চৌধুরী, হেলাল আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ দিপক, বাবলুল হক, দেলোয়ার হোসেন খান, ফারুক আহমেদ রনি, সুফিয়ান,আবু আহমেদ, ডঃ আদনান পাবেল, আহমদ, নাজমুল হোসেন, কবি আতাউর রহমান মিলাদ,নোমান আহমেদ, ময়নুর রহমান বাবুল,মশাহিদ খান, আবু তাহের এমবিই, গোলাম রব্বানী চৌধুরী, কাউন্সিলার সাঈদা চৌধুরী লাভলী, কয়েস চৌধুরী, ওয়ার্দিং কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলর হেনা ফেরদৌসী চৌধুরী, মিল্লাত চৌধুরী, ক্রয়ডন কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলর শেরওয়ান চৌধুরী, কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ, কাম আলি,এ আহাদ, সাব্বির আহমদ, বিসিএর নাসির উদ্দীন, হাফিজ এম এ মুকিত,সাব্বির করিম, লুতফুর রহমান সায়েদ,লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য ও টিভি প্রেজেন্টারদের মধ্যে অনেকে ছিলেন তাদের মধ্যে আহাদ চৌধুরী বাবু, আ স ম মাসুম, ববি রয়,সৃষ্টি রয়, লায়লা ডরিন, সেলিনা চৌধুরী, মিতা, মমতাজ, ছাবিহা (কেমেরাপার্সন) প্রেজেন্টার তামান্না মিয়া কিশোর মুনিয়া, জেসমিন, ফরিদা,ইয়াসমিন, সাজনা, আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, এখলাসুর রহমান পাক্কু, আলাউর রহমান খান শাহিন, ফয়সাল মাহমুদ, শওকত মাহমুদ টিপু, শাহনাজ সুলতানা, কামরুল হাসান, মিল্টন রহমান, এম সেলিম সালেহ আহমেদ, শামসুল তালুকদার,বাংলা মিররের ফাউন্ডার এম এ করিম গনি, মাহবুব খানসুর, হাফিজুর পলক রহমান, এম এ কাইয়ুম, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, আরিফ মাহফুজ, শোয়েব কবির, জাকির কয়েস, কামরুল আই রাসেল, ফজলু মিয়া, মাসুদুর রহমান, এনাম চৌধুরী,মুজাহিদুল করিম, স্মৃতি আজাদ, ধনঞ্জয় পাল, প্রমুখ।