আজ বিশ্ব বাবা দিবস

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ


ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও নির্ভরতার প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়, যা এ বছর পড়েছে ২১ জুন। সন্তানের জীবনে বাবার অবদানকে সম্মান জানাতেই বিশ্বব্যাপী এই দিনটি পালন করা হয়।

যদিও বাবা দিবসের ধারণার জন্ম পশ্চিমা বিশ্বে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ইতিহাস বলছে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাবা দিবস উদ্‌যাপনের সূচনা হয়। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও সন্তানের জীবনে সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল—এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই দিবসটি চালু করা হয়েছিল।

বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস নামে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। স্থানীয় গির্জায় মা দিবস পালনের কথা শুনে তিনি অবাক হন যে বাবাদের জন্য এমন কোনো দিন নেই। কারণ তিনি তার বাবাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।

মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে বড় করে তোলেন। বাবার সেই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হয়, যেমন মায়েদের জন্য একটি বিশেষ দিন আছে, তেমনি বাবাদের জন্যও একটি দিন থাকা উচিত।

এরপর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। ধীরে ধীরে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালিত হয়।

বাবারা ভালোবাসেন ভিন্নভাবে। অনেক সময় তাদের ভালোবাসা সরাসরি চোখে পড়ে না, কারণ তারা আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সংসারের ভার, সন্তানের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা—সবকিছু কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যান তারা।

সন্তান যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনও বাবা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। নিজের স্বপ্ন অনেক সময় ত্যাগ করেন সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য। তাই বাবার ভালোবাসা অনেকটা বিশাল বটগাছের মতো—যার ছায়া সবসময় অনুভব করা যায়, কিন্তু শিকড়ের গভীরতা সহজে দেখা যায় না।

ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় আমরা বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি ছোট ধন্যবাদ, একটি ফোনকল বা কিছু সময় একসঙ্গে কাটানোও বাবার মুখে এনে দিতে পারে তৃপ্তির হাসি।

বাবা দিবস শুধু উপহার দেওয়ার দিন নয়, এটি সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার একটি উপলক্ষ।

আজকের দিনে বাবার জন্য কিছু সময় রাখা, তার পছন্দের খাবার দেওয়া, পুরনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা কিংবা দূরে থাকলে ফোনে কথা বলাও হতে পারে বিশেষ উপহার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকে বলা—“তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।”

একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh