সব
মিলু কামাল, লন্ডন,
গত ২০শে জুন ‘২৬ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইস্ট লন্ডনের ১৯২-১৯৬ ব্রেইডি স্ট্রিটে অবস্থিত ব্রেইডি আর্টস অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে (E1 5HU) সাংস্কৃতিক সংগঠন গীতবীণা, “আমি তোমাদেরই লোক” শীর্ষক একটি ত্রিমাত্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিলো, কবিতায়, গানে ও সরাসরি চিত্রাঙ্কনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
এতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নানা আঙ্গিক ও নানা তালের গান আর করিওগ্রাফি উপস্থাপন করেন গীতবীণার শিল্পী রুমি হক, মিতালী বনোয়ারি ও সুনিতা চৌধুরী। বিভিন্ন পর্যায়ের গান পরিবেশন করেন ডক্টর শ্যামল চৌধুরী ও কবিগুরুর বিভিন্ন কবিতা থেকে এককভাবে আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ডাঃ সুপ্রিয় রায়।
এছাড়াও এতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলো লন্ডনের চিত্রশিল্পী এস এম আসাদ কর্তৃক অনুষ্ঠান চলাকালীন সরাসরি চিত্রাঙ্কন। তিনি অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ অবধি রবি ঠাকুরের দুটি প্রতিকৃতি আঁকেন।
আলোকশিখাসহ সংক্ষিপ্ত করিওগ্রাফির সাথে “আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে” গানটির পরিবেশনার পর সঞ্চালকদ্বয় মোস্তফা কামাল মিলন (বাংলায়) ও স্নেহাসন চৌধুরীর (ইংরেজিতে) অভ্যাগতগের সাদর সম্ভাষণ জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়।
প্রথমে গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক সরদার উপস্থিত সবাইকে উষ্ণ স্বাগত জানান। তিনি গীতবীণার অনুষ্ঠানের মান বজায় রাখা, এমনকি তা উত্তোরত্তর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ও সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
তারপর একটানা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে গান ও কবিতা পরিবেশন অব্যাহত থাকে। এতে একক ও দ্বৈত কণ্ঠে এবং সম্মিলিতভাবে ষোলটি গান পরিবেশিত হয়। গানের ফাঁকে ফাঁকে ছিলো আটটি কবিতার একক আবৃত্তি। অত্যন্ত যত্ন করে সাজানো ও সুসংগঠিত অথচ ভিন্ন আঙ্গিক ও আমেজের ত্রিমাত্রিক অনুষ্ঠান ছিল এটি।
একদিকে রবিঠাকুরের বিভিন্ন পর্যায় ও তালের গান, দ্বিতীয়তঃ একক আবৃত্তি কবিগুরুর বিভিন্ন কবিতা থেকে এবং তৃতীয়তঃ অনুষ্ঠান চলাকালীন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই সময়ের দুটি প্রতিকৃতি অংকন। মঞ্চসজ্জাসহ সবমিলিয়ে একটা রাবিন্দ্রিক পরিবেশ বজায় ছিল পুরো সময়টি জুড়ে। উপস্থিত দর্শকবৃন্দ একাত্ম হয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণার পরপরই উপস্থিত অতিথিবৃন্দের অনেকেই স্বেচ্ছায় তাদের অনুভূতি ও মতামত ব্যক্ত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা হৃদয়উৎসারিত মন্তব্যে তাদের ভাষায় অনুষ্ঠানটিকে সুসংগঠিত ও কালক্ষেপনহীন এবং অত্যন্ত উপভোগ্য ও মনোমুগ্ধকর বলে অভিহিত করেন। গানের পরিবেশনার সাথে সাথে কবিতাসমূহের নির্বাচন ও সাবলীল অথচ সঠিক উপস্থাপনা এবং এত অল্প সময়ের (১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) মধ্যে বিশ্বকবির ভিন্নভিন্ন বয়সের দুটি প্রতিকৃতি অংকন দর্শকদের যারপর নাই বিমোহিত করেছে। অনেকেই ১.৪০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৩০টি অ্যাক্ট উপস্থাপনকে নজির হিসেবে বিবেচনা করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে অনুরূপভাবে প্রয়াত সুবীর নন্দীর স্মরণ অনুষ্ঠানেও এস এম আসাদ ছবি এঁকেছিলেন যা কিনা পরে মন্তব্য বহিসহ ঢাকায় সশরীরে তাঁর পরিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিলো।
গীতবীণার এবারকার অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবাঙালি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ইংরেজ, গায়ানিয়ান, সিথুয়েনিয়ান, ফিলিপিনোসহ আরও অনেক ভিন্নভাষাভাষী অতিথি ছিলেন এবং তাঁদের অধিকাংশই বেশ গরমের মধ্যে শুরু থেকে শেষাব্দী ঠায় বসে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে সমস্ত পরিবেশনা অবলোকন করেছেন। এদের মধ্য থেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন কবি মাইক র্যাগেট ও নিউহ্যামের কমিউনিটি ওয়ার্কার নিকোলা মা-মারি।যা ছিলো ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ক। এছাড়া কবি শামীম আজাদ, হাবীব রহমান, মুজিবুল হক মনি, সঙ্গীতজ্ঞ হিমাংশু গোস্বামী, সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল হাসান ও তবলাবাদক পন্ডিত সুদর্শন দাশ অনুষ্ঠান সম্পর্কে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। ধারাবর্ণনা বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষাতেই করা হয়েছিলো এবং এছাড়া গানগুলোর ইংরেজিতে লেখা সারমর্ম ভিনভাষীদের নিকট দেওয়া হয়েছিলো বিধায় অনুধাবনে সুরের সঙ্গে বাণীর কিছুটা হলেও সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছিলেন তারা। হালকা আপ্যায়ণের ব্যবস্থা ছিলো।
কলাকুশলীদের মধ্যে গীটারে ছিলেন রীয়াদ, শব্দনিয়ন্ত্রণ ও কীবোর্ডে তন্ময়, তবলায় ইউসুফ আলী খান, ভিডিও ধারণে রাশেদ ও স্থির চিত্র ধারণে সাদিক আহমেদ চৌধুরী নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রস্থান করায় ব্রেইডি আর্ট সেন্টারের কেয়ারটেকারগন গীতবীণার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে পূর্ব লন্ডনের “থাই বাংলা অর্কিড রেস্টুরেন্ট”। অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেছে স্বদেশ-বিদেশ অনলাইন নিউজ, ভিকি ইমেজ এবং তবলা ও ঢোল একাডেমী লন্ডন। অনুষ্ঠানে কারিগরী সহায়তা দিয়েছেন সাদিক আহমেদ চৌধুরী ও মৃন্ময়।
সবশেষে অনুষ্ঠান নির্দেশক ডক্টর শ্যামল চৌধুরী পরবর্তীতে অনুষ্ঠানগুলোতে আসবার আহ্বান এবং কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।
