জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে পাঁচ দফা দাবি সাবেক সমন্বয়ক-সংগঠকদের

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

জুলাই অভ্যুত্থানের ‘প্রকৃত ইতিহাস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠকরা।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক নাজমুস সালেহী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, মেধার অবমূল্যায়ন, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার সংকট এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিণতি। তবে অভ্যুত্থানের প্রায় ২৩ মাস পরও সেই আন্দোলনের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।”

তার ভাষ্য, অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, সংস্কার কার্যক্রমের ‘ধীরগতি’ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘সুবিধাবাদী প্রবণতা’ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।

“আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি সমগ্র দেশের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রথম দাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘প্রকৃত ইতিহাস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্বের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ‘ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা’ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

দ্বিতীয় দাবিতে শহীদ, আহত ও সম্মুখসারির যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষভাবে যাচাইকৃত রাষ্ট্রীয় গেজেট প্রকাশ, বিদ্যমান তালিকা পুনর্বিবেচনা এবং গেজেটভুক্ত আহতদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

এছাড়া ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সহিংসতা, তনু হত্যাকাণ্ড এবং ওসমান হালী হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং ইউজিসির কাঠামোগত সংস্কার করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। গবেষণা ও একাডেমিক উন্নয়নে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা’ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তাবিত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন। প্রকৃত ইতিহাসের স্বীকৃতি, ন্যায়বিচার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়াত উল্লাহ, ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন ইমন, জুলাই যোদ্ধা কামরুল হাসানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠকরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh