আবু সাঈদকে শ্রদ্ধায় স্মরণ, কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

রংপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে কবর জিয়ারত, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন।

সকালে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তার কবর জিয়ারত করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষও সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একই দিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ শত বাধা, নির্যাতন, কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিপেটার মুখেও পিছিয়ে যাননি। মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচার করতে সময় লাগলেও তা হবে ন্যায়সঙ্গত ও দৃষ্টান্তমূলক।”

আলোচনা সভায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘‘তার ছেলের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।’’

তিনি বলেন, ‘‘সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।’

অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলী, রংপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করার একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

সেই দিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh