সেই তাহসিনকে ডেকে নিলেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাহসিন আব্দুল্লাহকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে কিছু সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাহসিন ও তার বাবা আসেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সপ্তম শ্রেণির এ শিক্ষার্থী।

প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে বিভিন্ন আলাপ করেন। এরপর তাকে একটি ড্রোন সেট, ফুটবল ও বাস্কেটবল উপহার দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘গত ২৭ জুলাই আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী অনুষ্ঠানে গ্যালারিতে কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। সেখানে স্কুলের পোশাক পরা এক কিশোরের (তাহসিন) প্রধানমন্ত্রীর দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দুটি হাত আর চোখেমুখে উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে।’

‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও ওই আলোকচিত্র দৃষ্টি কাড়ে। পরে তিনি শিশুটির সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।’

রুমন বলেন, ‘সকালে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন তাহসিনের বাসায় যান। বাবাসহ তাহসিনকে নিয়ে আসেন। আসার আগ পর্যন্ত তারা জানত না যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে কথা বলেছেন, কিছু সময় কাটিয়েছেন।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে দেখে তাহসিন খুশিতে আত্মহারা হয়ে হাসতে থাকে। সালাম দিয়ে বলে, আজকে আমার সবচেয়ে খুশির দিন। প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখছি।’

সাক্ষাতে তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। উপহার হিসেবে পাওয়া বাস্কেটবলে প্রধানমন্ত্রীর অটোগ্রাফও নিয়েছে তাহসিন।

তাহসিনের বাবা নাজমুল হক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার ‍দুই সন্তান তাহসিন ও তাসনিয়া মাইলস্টোন স্কুলে পড়ত। গত বছর স্কুলটিতে বিমান বিধ্বস্ত হলে মেয়ে তাসনিয়া মারা যায়।

তাহসিনের বাবা বলেন, সেদিনের দুর্ঘটনার সময় দুই সন্তান ছিল আলাদা ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে, তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়াদের ভবনে।

“বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। কারো কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। বড় বোনের জন্য স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে।”

নাজমুল হক বলেন, ‘বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিন আগের মত প্রাণখোলা হাসত না। দুর্ঘটনার পর বদলে যায় তাহসিন।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তাহসিন বলে, ‘আজকের দিনটা আমার জন্য খুশির দিন। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনাব আমি।’

‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছি। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিও তুলেছি।’

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh