বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যা, মিলল খণ্ডিত মরদেহের ৯ প্যাকেট

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে রাখার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা আড়াল করতে খণ্ডিত মরদেহ পলিথিনে মুড়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লাইলী আক্তার নামের এক ভাড়াটিয়াকে জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা একাই ওই বাড়িতে থাকতেন। তিনি নিজের বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তার ও তার স্বামী আবুল কালাম আজাদের কাছে ভাড়া দেন।

শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় ফরিদা ইয়াসমিনের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে তার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় লাইলী স্বীকার করেন যে, তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী আবুল কালাম আজাদসহ রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরও তিন যুবক জড়িত ছিলেন বলেও তিনি জানান।

রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। লাইলী দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পা ও মাথা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh