ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এটি দেশটির ‘অর্থনৈতিক প্রাণধারাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে’। প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের প্রত্যয় জানিয়েছে।

তেহরান বলছে, ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদাররা প্রতিরোধ করবে বলেই তাদের বিশ্বাস।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার নতুন পদক্ষেপগুলোর কথা ঘোষণা করেন। তবে তিনি সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকেন। বেসেন্ট জানান, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে, তারা ডলার-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে ‘জোরপূর্বক বহিষ্কৃত হওয়ার’ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তবে সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে এমন দেশগুলোর নাম প্রকাশে রাজি হননি বেসেন্ট। এসব শাস্তি কখন কার্যকর হবে, তাও জানাননি তিনি। এর বদলে ওই দেশগুলোকে নতুন নির্দেশনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে চান বলে জানিয়েছেন।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, কোম্পানি ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরানের তেল বাণিজ্যকে সহজ করতে সাহায্য করা সন্দেহভাজন কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এই ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অর্থনৈতিক চাপের জবাবে ইরান সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

ঘোষণার পরে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানাইজাদে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে মাদানাইজাদে বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শত্রুরা আমাদের ওপর একটি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব অস্ত্র আছে আর আমরা জানি খেলাটা কীভাবে খেলতে হয়। আমাদের প্রতিরক্ষা আর প্রতিরক্ষামূলক নয়; শত্রুদের একটি আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।”

তিনি আরও জানান, চীন বা রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ‘মেনে নেবে’ না। অন্য দেশগুলোও এসব পদক্ষেপ প্রতিরোধ করবে বলে ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত ও সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানার প্রত্যয় জানিয়েছেন।

দেশে অজনপ্রিয় একটি যুদ্ধের সমাধানে হিমশিম খেতে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আরও অর্থনৈতিক চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। যদিও ইরান বহুস্তরীয় মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দশকের পর দশক পার করেছে।

কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির নেতৃত্বকে দমাতে পারেনি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh