সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ ইরাক থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সামরিক উপস্থিতির অবসানকে ইরান ও দেশটির মিত্ররা বিজয় হিসেবে দেখছে। এই সময়ে ইরাকে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যে দেশটিতে থাকা শেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়ার কথা।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত সংগঠন ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাকের কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরাকি ইসলামী প্রতিরোধ গোষ্ঠী, ইরাকিদের জন্য ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়াও এই পদক্ষেপ ‘আমেরিকার জন্য চরম পরাজয়’ হিসেবেও দাবি তার।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ইরাকের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়ের অবসান এবং আমাদের দেশের ওপর দখলদার বাহিনীর ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার ব্যর্থতা উদ্যাপন করব। ইরাক প্রমাণ করেছে, এর সার্বভৌমত্ব বিদেশি শক্তি দ্বারা সুরক্ষিত হতে পারে না। বরং তা সুরক্ষিত হয় এর জনগণের প্রতিরোধ ও ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে।’
মার্কিন বাহিনীর চূড়ান্ত প্রস্থান ইরাকিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর শক্তি নিয়ে উদ্বিগ্নরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রত্যাহার সময়ের আগেই হচ্ছে। একসময় মার্কিনবিরোধী প্রতিরোধের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফালুজার সুন্নি গোত্রীয় নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাই বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ইরাক এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।’
তিনি আরও বলেন, সব ইরাকিই পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায় এবং কোনো ইরাকিই তা অস্বীকার করবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, (মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের) এভাবে চলে যাওয়া এবং যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তাই সব ইরাকির ভয়ের কারণ।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, জোটের প্রস্থানের ফলে ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হবে। কারণ এর মাধ্যমে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা বছরের পর বছর ধরে ইরাকে তেহরানের প্রভাবের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করেছে।
ইরানের মিত্র সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলো নিয়ে গবেষণায় বিশেষজ্ঞ এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই প্রস্থানকে শুধু নিজেদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে না, বরং ‘নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর প্রভাব বিস্তারের জন্য এই গতিকে কাজে লাগানোরও চেষ্টা করবে’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক ২০২৪ সালে দুই ধাপে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরাকে জোটের সামরিক মিশন শেষ করার পরও ইরাকের ঘাঁটি ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আইএসআই-বিরোধী কার্যক্রমে সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।