সব
সিলেট ব্যুরো অফিস,

সিলেটের আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় বরখাস্ত হওয়া সাবেক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পুলিশের অপর দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপর তিন আসামি বহিষ্কৃত এসআই আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার প্রধান আসামি ও তৎকালীন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর জামিন স্থগিত করে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো আত্মসমর্পণ করেননি।
যেভাবে ঘটেছিল রায়হান হত্যা
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে (৩৪) নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে কনস্টেবল হারুনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি আকবরকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় খাসিয়াদের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল সিলেট
রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।