হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের নতুন প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

প্রায় আট মাস আগে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের জের ধরে এখনো বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে এই প্রণালি খোলাই যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে প্রণালি খুলতে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিলেও, এখন ইরান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে তারা প্রস্তুত। গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, “আমাদের সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার প্রস্তাব দিচ্ছি। আমাদের দাবি মানা হলে দ্রুত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা হবে এবং আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সবকিছু নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের দাবিগুলো মেনে নেবে কি না তার ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেখেছে ইরান। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পার হতে চাইলে তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এর পালটা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে কড়া নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।

গত সেপ্টেম্বরে কাতারের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাঠায় ইরান। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, দাবি মানা হলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সকল যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।

রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ও ওমান একটি নতুন রুট চালু করতে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই রুট মেনে নিতে হবে। এছাড়া গত কয়েক মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলে মার্কিন সেনার উপস্থিতিও কমানোর দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট থেকে ইরানের ওপর একের পর এক নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তখন বলেছিলেন, ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ’ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামীকাল (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দুটি নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানে পুনরায় হামলা শুরু করতে পারে।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তবে তিনি আরও দু-একটি সন্দেহভাজন স্থানে, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স পর্বতের কথা উল্লেখ করে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র পিকঅ্যাক্স পর্বতকে একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা বলে দাবি করলেও তেহরান সবসময় তা অস্বীকার করে আসছে।

সব মিলিয়ে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন হলে আমরা এর শক্তিশালী ও তাৎক্ষণিক জবাব দেব।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh