সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

সিলেট টেস্টের প্রথম দিন সকালে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে প্রথম ঘণ্টাতেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্যারিবীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেইস। দিনের প্রথম সেশনে ৩ উইকেটে ৮৬ রান সংগ্রহ করে দলটি। চা-বিরতিতে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮০ রান।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ব্র্যান্ডন কিংকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ১৮ বলে ৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। এরপর হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন কাভেম হজ। ১০ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন তিনি।
এরপর তাসকিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন জশুয়া দা সিলভা। ১৭ বলে ১২ রান করেন তিনি। ফলে মাত্র ২৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে এরপর আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। চতুর্থ উইকেটে দুজনের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। ১০১ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ার পর ১৯২ বলে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন তারা।
ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন দুজনই। ৮৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন জাঙ্গু। অন্যদিকে ১২৩ বলে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছান উইকহ্যাম। লাঞ্চের আগে শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বাউন্ডারি মেরে জুটিকে পঞ্চাশে পৌঁছে দেন উইকহ্যাম। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮৬ রান।
লাঞ্চের পরও বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন এই দুই ব্যাটসম্যান। প্রথম ঘণ্টায় ১৭ ওভারে ৪৪ রান যোগ করেন তারা। দুই প্রান্তে স্পিনার ব্যবহার করে রানের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান খুব বেশি রান দেননি। তবে উইকেট নেওয়ার মতো সুযোগও তৈরি করতে পারেননি তারা।
এর মধ্যে আমির জাঙ্গুকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হাসান মাহমুদ। নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাটের অগ্রভাগে বল লাগিয়ে হাসানের দিকে পাঠান জাঙ্গু। তবে নিচু হয়ে বল ছুঁতে পারলেও সেটি মুঠোয় রাখতে পারেননি এই পেসার। তখন জাঙ্গুর ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ৬৮ রান।
এদিকে অভিষেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন কেভিন উইকহ্যাম। নাঈম হাসানের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ১২৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে জাঙ্গুও নিজের ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন।
অবশেষে ৫১তম ওভারে উইকহ্যামকে ফিরিয়ে ১৩১ রানের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। একের পর এক বাউন্সারে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেওয়ার পর লেংথ বলে সাফল্য পান তিনি। বাউন্সারের জন্য প্রস্তুত থাকা উইকহ্যাম হঠাৎ লেংথ বল দেখে তড়িঘড়ি করে খেলার চেষ্টা করেন। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে।
১৪৫ বলে পাঁচ চারে ৬১ রান করে ফেরেন অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান। ৫১ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৬২ রান।
দ্বিতীয় সেশনে ২৯ ওভার বোলিং করে মাত্র একটি উইকেট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে ৯৪ রান যোগ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় আমির জাঙ্গু ১২৪ বলে এক ছক্কা ও সাত চারে ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্য প্রান্তে জাস্টিন গ্রেভস ১৯ বলে দুই চারে ১৬ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৮ উইকেটে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজে সমতা ফেরাতে সিলেট টেস্টে জয়ের বিকল্প নেই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে।
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে এসেছে দুটি পরিবর্তন। মাথায় আঘাত পেয়ে ছিটকে যাওয়া মুমিনুল হকের জায়গায় ফিরেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও রয়েছে দুটি পরিবর্তন। জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চান্দারপলের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন জশুয়া দা সিলভা ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: ব্র্যান্ডন কিং, জশুয়া দা সিলভা, কেভিন উইকহ্যাম, কাভেম হজ, জাস্টিন গ্রেভস, আমির জাঙ্গু, রস্টন চেইস, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস, জশুয়া বিশপ ও জোমেল ওয়ারিক্যান।