জাপান–চীন সম্পর্কে নতুন উত্তাপ, চীনা নাগরিকদের ভ্রমণ বারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

তাইওয়ান সম্পর্কে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ এড়ানোর অনুরোধ করেছে চীন। গত ৭ নভেম্বর তাকাইচি জাপানি পার্লামেন্টে ইঙ্গিত দেন, স্ব-শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীন শক্তি প্রয়োগ করলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

চীন তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ড হিসেবে মনে করে। ফলস্বরূপ এই মন্তব্যের কারণে কড়া বার্তা দিয়ে বেইজিং জানায়, তাইওয়ান প্রণালীতে জাপানের যে কোনো সামরিক সম্পৃক্ততাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য করে ‘শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ’ চালানো হবে।

এরই মাঝে গতকাল শুক্রবার বেইজিং জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। এছাড়া একটি গুরুতর সতর্কবার্তা জারি করে ওসাকায় নিযুক্ত চীনের কনসাল জেনারেল জুয়ে জিয়ান অন ‘জাপানি প্রধানমন্ত্রীর মাথা কেটে ফেলার’ হুমকিও দিয়েছেন। যদিও পরে এক্স-এ দেওয়া পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। এরপর টোকিও চীনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

এমন উত্তেজনার মাঝে গত রাতে জাপানে নিযুক্ত চীনের দূতাবাস নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে। উইচ্যাটে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি জাপানি নেতারা তাইওয়ান সম্পর্কে স্পষ্টতই উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন, যা জনগণের সঙ্গে জনগণের আদান-প্রদানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

এতে আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতি জাপানে চীনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং জীবনের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি উপস্থাপন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাপানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলো চীনা নাগরিকদের নিকট ভবিষ্যতে জাপান ভ্রমণ এড়ানোর কথা আন্তরিকভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

জাপানের জিজি প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, বেইজিংয়ের আহ্বান কৌশলগত এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। জাপান সরকার চীনা পক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।

এদিকে, আজ শনিবার চীনের বৃহত্তম বিমান সংস্থাগুলো জাপান রুটে ফ্লাইটের জন্য দেওয়া অগ্রিম টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন এবং চায়না ইস্টার্ন—সকলেই নীতিমালা সম্পর্কে পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বেইজিং জোর দিয়ে বলেছে, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের অংশ। এর নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

জাপান ও চীন ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সময়ে বিবাদে জড়িয়েছে। তবে জাপানি নেতারা পূর্বে তাদের বক্তব্যের সময় প্রকাশ্যে তাইওয়ানের কথা উল্লেখ করা এড়িয়ে গেছেন। জাপানের প্রধান নিরাপত্তা মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ান নিয়ে ‘অস্পষ্টতা’ বজায় রেখেছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh