আগুনে শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই, রাতে ঠাঁই ‘খোলা আকাশের নিচে’

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

টানা সোয়া ৫ ঘণ্টা দাউ দাউ করে জ্বলার পর নিভল মহাখালীর কড়াইল বস্তির আগুন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান ফায়ার সার্ভিস। আগুন লাগার প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো রাস্তায় ছিল যানজটে আটকা।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রচুর নারী ও শিশু রয়েছেন। তারা এখন অস্থায়ী আশ্রয়হীন। পরিবারের অভিভাবকরা উদ্ধার কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলেও ক্লান্ত শরীরে খোলা আকাশের নিচে যেখানে জায়গা পেয়েছেন, সেখানে ঘুমিয়েছেন। অধিকাংশ শিশু গায়ে থাকা ভেজা কাপড়েই ঘুমিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কাজ করে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে, বস্তির ঘিঞ্জি এলাকা এবং ঘটনাস্থলে তীব্র পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে কর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বস্তির শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আগুনে ঘর হারানো লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। কিস্তিতে কেনা সব জিনিস চোখের সামনে পুড়ে গেল। এখন আমাদের পথে বসতে হবে। কিস্তিতে কেনা জিনিস, কিছু জমানো টাকা, কাপড় সব কিছু পুড়ে গেছে। এখন আমাদের বাচ্চারা কোথায় ঘুমাবে, আমরা জানি না। পানিতে ভেজার কারণে তারা শীতে কাঁপতে শুরু করেছে। আমরা সাহায্য চাই, নিরাপদ আশ্রয় চাই।

শামসুল ইসলাম নামে আরেক দিনমজুর গণমাধ্যমকে জানান, মাত্র দুই মাস আগেই তিনি এই বস্তিতে উঠেছেন। তিনি বলেন, আগুনে আমার নতুন জিনিসপত্র সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন এত তীব্র ছিল যে আমরা কোনো জিনিসই রক্ষা করতে পারিনি। চারিদিক ধোঁয়া আর আগুনে ঘিরে আমাদের বের হতে অনেক কষ্ট হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh