সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরতে ‘ট্রাভেল পাসের’ জন্য আবেদন করেছেন। তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে এ আবেদন করেছেন।
বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটের ওয়ান ওয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
সূত্র জানায়, ট্রাভেল পাশের জন্য ফরম পূরণ করে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপের কো-অর্ডিনেটর কামাল উদ্দিনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠিয়েছেন তারেক রহমান।
জানা যায়, তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। ব্রিটিশ পাসপোর্ট আছে কিনা সেটাও জানা যায়নি। সেক্ষেত্রে তাকে দেশে ফিরতে হলে ট্রাভেল পাশ ছাড়া বিকল্প ছিল না।
রাজনৈতিক কারণে লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমান মেয়াদ ফুরানোর পর আর বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাননি। গত বছর অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুযোগ থাকলেও তিনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ কারণেই বাংলাদেশি হিসেবে তাকে দেশে ফিরতে হলে ট্রাভেল পাশ নিয়ে আসতে হবে।
গত মাসে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, ‘তারেক রহমান দেশে আসতে চাইলে কোনো বিধিনিষেধ নেই, এক দিনে ট্রাভেল পাশ দেওয়া সম্ভব।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে যে যখন পাসপোর্ট থাকে না বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বলে, তখন কেউ যদি আসতে চান, তাহলে তাকে আমরা ওয়ান টাইম পাস একটা দিয়ে দিই, একবার দেশে আসার জন্য। তো এটাতে এক দিন লাগে। কাজেই এটা উনি যদি আজকে বলেন যে উনি আসবেন, আগামীকাল হয়তো আমরা এটা দিলে পরশু দিন প্লেনে উঠতে পারবেন। কোনো অসুবিধা নেই। এটা আমরা দিতে পারব।’
১৭ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাজ্য থেকে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ওই দিন বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজন করছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আজ বলেন, ‘আমরা চাই, তাঁর (তারেক রহমান) এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন যেন বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসে যেভাবে, যা কিছু দৃষ্টান্ত হয়েছে, তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং আগামী ৫৫ বছরের ইতিহাসেও যেন সে রকম কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না হয়, সে রকম একটা স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আমাদের সব আয়োজন হচ্ছে।’
তারেক রহমানের মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারেক রহমান দেশে ফিরে সরাসরি হাসপাতালে মাকে দেখতে যেতে পারেন। তাই তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য বিমানবন্দর ও এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছাকাছি উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।