ঋণখেলাপি না হতে, চেনা মানুষদের কাছে ৩৬ কোটি টাকা চাইলেন মান্না

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

৩৬ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের কারণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এমন পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি না হতে চেনাজানা মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মান্না বলেন, ২০০৭–০৮ সালের দিকে নিজ এলাকায় ঋণ নিয়ে তিনি একটি হিমাগার স্থাপন করেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী হন। সে সময় তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতা। গ্রেপ্তারের পর তিনি ওই ব্যবসা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং তাঁর অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়ে যান।

তিনি বলেন, “আমি তখন ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন সেই ঋণ ৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।”

মান্না জানান, গত ৫ আগস্টের পর ওই এমডির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা হয়েছে। এসব মামলার পর তিনি স্ত্রীসহ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ঋণখেলাপি থেকে মুক্তি পেতে হলে ওই এমডিকে আদালতে হাজির করা প্রয়োজন হলেও তিনি আত্মসমর্পণ করবেন—এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মান্না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, তিনি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করেছিলেন। আদালতে গেলে তাঁর পক্ষে আদেশ আসে, যাতে তাঁর নাম খেলাপির তালিকায় না থাকে। তবে দুপুরে দেওয়া সেই আদেশ সন্ধ্যায় স্থগিত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি শ্রেণি ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি আটকে দিয়েছে, যাতে আমি নির্বাচন করতে না পারি। বগুড়ায় বিএনপির স্থানীয় সভাপতি একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। তিনি তাঁর প্রভাব দলগতভাবে ব্যবহার করছেন। দলের একটি অংশ আদালতেও সেই প্রভাব প্রয়োগ করছে।”

মান্না আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পরও বিচারব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আদালতের কাছে তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যেই তাঁকে নির্বাচনী মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। সে কারণে তিনি চান, সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) যাতে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় এবং ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার এ বিষয়ে একটি রায় হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। রায় তাঁর বিপক্ষে গেলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানান।

তবে সবদিক বিবেচনায় রায় তাঁর পক্ষেই আসা উচিত বলে মনে করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, “যাঁরা আমাকে চেনেন, ভালোবাসেন, সেই বিশ্বাস থেকে কেউ যদি এই টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh