সিলেটের কানাইঘাটে নাতির হাতে দাদী খুন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ

সিলেটের কানাইঘাটে মাদকাসক্ত এক নাতি নেশার টাকা না পেয়ে আপন দাদীকে ঘুমের মধ্যে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির কালিনগর ধর্মটিলা গ্রামে। এ ঘটনায় ঘাতক নাতি আব্দুস ছামাদ (২০) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ঘাতক আব্দুস ছামাদ।

স্থানীয়রা জানান, নিহত আমিরুন বিবি হারি’র মাথায় রক্তাক্ত আঘাত রয়েছে। সে ধারালো কোন অস্ত্র দিয়ে এ হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে পুলিশ।

জানা যায়, ঘাতক আব্দুস ছামাদ কালিনগর ধর্মটিলা গ্রামের আকমল হোসেনের পুত্র। সে দীর্ঘদিন থেকে ইয়াবা আসক্ত ছিল বলে আত্মীয়-স্বজনেরা জানিয়েছেন। আব্দুস ছামাদের বাবা আকমল হোসেন তার স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার এক প্রবাসীর বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাতে আব্দুস ছামাদ নেশা করার জন্য দাদী আমিরুন নেছা হারি’র কাছে টাকা চেয়েছিল। দাদী টাকা না দেওয়ার কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ রাতের কোন এক সময় দাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় মাথায় ভারী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। বুধবার সকালে বাড়ির আশপাশের লোকজন আমিরুন নেছা হারি’র কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বসতঘরে প্রবেশ করে তার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। সাথে সাথে ঘটনাটি কানাইঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি সালমান নুর আলম ও থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক আব্দুস ছামাদকে গ্রেফতার করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দাদীকে হত্যার ঘটনায় আব্দুস ছামাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন আব্দুস ছামাদ নিয়মিত নেশা করত, সে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ছিল। সম্প্রতি পরিবারের লোকজন তার এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে একবার বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসলে তখন ছামাদকে চিকিৎসার জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর পরামর্শ দেয় পুলিশ।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh