বিটিসিএলের কর্মকর্তাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে প্রভাবিত হয়ে অন্যায় ও একতরফাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মামলার বাদি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মামলার আদেশের বিষয়ে জানতে পারি।

মামলায় আসামি করা অপর চারজন হলেন- মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট www.uset.ac.bd Ges www.uset.edu.bd পরিচালনা করেন। এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে দেয়া না হয় সে বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে এক পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মামলার ২ নম্বর আসামি স্বাক্ষরিত একটি পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। যাতে উল্লেখ করা হয়, ডোমেইন বিষয়ে আপত্তি এসেছে।

অভিযোগ শুনানির বাবদ ২৩ হাজার টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। গত ৩০ নভেম্বর ২৩ হাজার টাকা পে-অর্ডারসহ কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে গেলে তারা তা গ্রহণ না করে ফেরত দেন। তারা অজুহাত দেন যে, ডিমান্ড নোট অনুসারে ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেয়ার মেয়াদ চলে গেছে। মামলায় বলা হয়, আসামিগণের নিরপেক্ষতার ঘাটতি দেখে এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই আঁচ করে আসামিরা দুরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে ও ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেন; যাহার নং-২১৮৯৪/২০২৫ তাং-১৪/১২/২০২৫।

অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে মামলার বাদি গত ১৫ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর আড়াইটার দিকে ১ নম্বর আসামি জয়ীতা সেন রিম্পীর রুমে প্রবেশ করে উক্ত বিষয়ে কথা বলতে গেলে আসামি প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে বাৃদিকে গালিগালাজ করেন, কটু কথা বলেন এবং বিটিসিএলের বারান্দায় যেন আপনাকে আর কোনো দিন না দেখি বলে হুমকি দেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। তিনি হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট রিসিভ করেননি এবং প্রচণ্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয় আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকে আবেদন গ্রহণ না করার জন্য নিষেধ করেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়ার হুমকি, ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ না করে দাফতরিক কাজে অসহযোগিতা বিষয় উল্লেখ করে বাদি তার আইনজীবীর মাধ্যমে আসামিদের ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলে আসামিরা পরস্পর ষড়যন্ত্র করে গত ১১ জানুয়ারি বিকেলে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ডোমেইন বন্ধ করে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh