সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে গতকাল বুধবার রাতে সিলেট এসে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া সিলেটে শাহজালাল র. ও শাহপরান র. এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। তারেক রহমানও সেই ধারা অব্যাহত রেখে সিলেট এলেন।
বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটাই তার প্রথম সফর। আলিয়া মাঠের জনসভায় তারেক রহমান সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মোট ১১ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘ধানে শীষ’ তুলে দিবেন।
এরআগে ঢাকা থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সাথে নিয়ে গতকাল রাতে বিমানে তিনি সিলেট এসে অবতরন করেন। সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে শাহজালাল র. বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং রাত ৮টায় সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
এসময় সিলেট ১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির, ৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও ৬ আসনের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদীসহ সিনিয়র নেতারা তাদের স্বাগত জানান।
পরে তিনি রাতেই দুই ওলির মাজার জিয়ারত করেন এবং তার শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমার সিলামের বিরাইমপুরে মেজবানে যান। জামাইয়ের আগমনে শ্বশুরালয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। পুরো বাড়িটি সাজিয়ে তোলা হয় মেয়ের জামাইকে বরণের আদলে।
মেজবানে প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য ৪০ ডেগ আখনি রান্নার কাজ সকাল থেকেই শুরু করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আটটি গরু ও ৩৪ বস্তা চালের আখনি রান্নায় অংশ নেন বেশ কয়েকজন বাবুর্চি।
সিলেট সফরের পর তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম, নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আগমন ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে সিলেট নগরী। নগরীজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ। বুধবার দুপুরে নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন।
ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থল ঘিরে বিশাল বিশাল ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে আশপাশের এলাকা। মাঠে জনসভার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেটে থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রেখেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে চব্বিশের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন।
সমাবেশের ব্যাপারে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখ বা তারও বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দল। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ নয়; তবু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে এটি।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নেবেন। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জনসভা ঘিরে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থামূলক প্রস্তুতি নিয়ে আগেই রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকবে। সেই সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।