সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

আজ সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশ্বের ১০০টি নগরীর মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ঢাকা। এ সময় রাজধানীর গড় বায়ুমান সূচক ছিল ২৫৯, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। নগরীর একটি স্থানে বায়ুদূষণের মাত্রা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থার নির্দেশক। এ স্থানসহ ঢাকার আটটি এলাকায় আজ দূষণ পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত খারাপ।
এই সময়ে বায়ুদূষণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল যথাক্রমে আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা ও মিসরের রাজধানী কায়রো। শহর দুটির বায়ুমান সূচক ছিল ২৪৭ ও ২২৭।
বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, একিউআই ২০০-এর বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ ছাড়ালে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচনা করা হয়। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি এই দুই স্তরের মাঝামাঝি থেকে কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে এবং লাইভ সূচকের মাধ্যমে জনসাধারণকে সতর্ক করে থাকে। আজ ঢাকার বায়ুর মান বিবেচনায় আইকিউএয়ার নগরবাসীর জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শও দিয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে ঢাকাই ছিল বায়ুদূষণে শীর্ষ শহর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী দূষণের কারণে নগরবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ বাড়ছে। রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত গৎবাঁধা বক্তব্য ও লোকদেখানো উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শুধু ঢাকাই নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে, অনেক ক্ষেত্রে যা রাজধানীর চেয়েও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের স্থানীয় উৎসগুলো এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালু, বিভিন্ন দ্রব্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্টি ধোঁয়া এবং ইটভাটার কথা উল্লেখ করা হয়। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
আজ সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকার যেসব এলাকায় বায়ুর মান ‘খুব খারাপ’ ছিল, সেগুলো হলো— নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড এলাকায় ৪০৮, ধানমন্ডিতে ২৯৩, দক্ষিণ পল্লবীতে ২৭৮, বেচারাম দেউড়িতে ২৭৩, মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ২৬৯, বে’জ এইজ ওয়াটার এলাকায় ২৫৬, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ২৩৬ এবং গোরানে ২১৩।
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। খোলা জায়গায় ব্যায়াম না করার এবং ঘরের জানালা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।