সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
টানা ষষ্ঠ মাসের মত পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় আগের বছরের একই মাসের চেয়ে কমল।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার রপ্তানির যে হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
রপ্তানি আয়ের এই পরিমাণ ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২ কোটি ২৩ লাখ ডলার বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম। আগের বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি ছিল ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
রপ্তানি কমার এই প্রবণতা চলছে গত বছরের আগস্ট মাস থেকে। তবে নিম্নমুখী গতি কিছুটা কমে এসেছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কমেছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৯৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে রপ্তানি থেকে ৪৪ কোটি ডলার বেশি আয় হয়েছে। এক মাসের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশের বেশি।
অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের রপ্তানি ২৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছি। এরপর শুরু হয় পতনের ধারা।
পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (আগের বছরের একই মাসের তুলনায়) অগাস্টে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরেও ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে যায় রপ্তানি খাতের আয়।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে।
এই সময়ে রপ্তানি থেকে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ডলার আয় হয়েছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার।
অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে রপ্তানি আয়ে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল
ইপিবির তথ্য বলছে, রপ্তানি আয়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা তৈরি পোশাক খাতে গত জানুয়ারিতে ৩৬১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। গত বছরের জানুয়ারিতে ৩৬৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।
পোশাক খাতে নিট পণ্যের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ। ওভেনে কমেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে ৭ শতাংশের মতো। তবে ওষুধ রপ্তানি ১৩ শতাংশ, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি ১৩ শতাংশ, পাট ও পাটপণ্যে ১২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ৬ শতাংশ বেড়েছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।
সূত্র: বিডি নিউজ