গোপালগঞ্জ ও নাটোরে নির্বাচনী উত্তেজনায় সহিংসতা, বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ


গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী জানান।

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের বিএনপি কর্মী দেলোয়ার শেখ (৩৮), তার স্ত্রী আমেনা বেগম (২৬), ভাতিজা কাউসার শেখ। তারা টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

বিএনপি কর্মী দেলোয়ার শেখের অভিযোগ, “সরদারপাড়া গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে জিয়ারুল এবং জামসেদ মোল্লার নুর ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করে। আর আমরা বিএনপির রাজনীতি করি।

“নির্বাচনের আগে ওদের বাড়িতে একাধিকবার ভোট চাইতে গেলে তারা খারাপ কথা বলে এবং ভোট চাইতে আসার জন্য হুমকি দেয়। তারপর থেকে আমাদের দেখলেই খারাপ কথা বলে।”

তিনি বলেন, “রোববার রাস্তায় গেলে জিয়ারুল, দ্বীন ইসলাম, সিদ্দিক মোল্লা ও তার তিন ছেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা করে এবং মাথায় কোপ দেয়। তখন আমার স্ত্রী, ভাতিজা ও বেড়াতে আসা দুজন মেহমান ঠেকাতে গেলে তাদের উপর হামলা করে। আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা এর বিচার চাই।”

আহত দেলোয়ারের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, “আমরা বিএনপি করি জন্য জামায়াতের লোকজন আমার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদের উপরও হামলা করে। এবারের সংসদ নির্বাচনে তারা জামায়াতের এজেন্ট ছিল। আমরা তাদের কঠোর বিচার চাই।”

এ বিষয়ে জানতে জিয়ারুল মোল্লা ও দ্বীন ইসলাম মোল্লার বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।

পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল ওহাব বলেন “নারীঘটিত ব্যাপার নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে জামায়াত বা বিএনপির কোনো বিষয় নেই।

“আমি যতটুক জানতে পেরেছি, দেলোয়ারের স্ত্রীর সঙ্গে বাজারের ফল ব্যবসায়ী জিয়ারুলের সম্পর্ক রয়েছে। এটা নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কোনো প্রশ্নই উঠে না।”

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, “ঘটনা শোনার পর পুলিশ তদন্ত করতে গিয়েছে। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অন্যদিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় মারপিট ও ভাঙচুরের অভিযোগে এক বিএনপি কর্মীকে পিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

রোববার রাত ১০টার দিকে বড়াইগ্রামের বাগডোব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম।

পিটুনির শিকার মফিজ উদ্দিন বড়াইগ্রামের খাকসা এলাকা খোরশেদ আলম ছেলে। তিনি বিএনপি সমর্থক।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, রোববার সকালে গভীর নলকূপের সীমানা নিয়ে মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে তার বড়ভাই ওমর আলী ও ভাগিনা রুবেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে পাশের চাটমোহর থেকে ৬-৭টা মোটরসাইকেলে দেশীয় অস্ত্রসহ ১৩-১৪ সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে আনেন মফিজ। তাদের নিয়ে মফিজ বড় ভাইকে মারপিট করে এবং হুমকি-ধামকি দেয়। এরপর চৌমহন এলাকায় ভাগিনা রুবেলের বাড়িতে ভাঙচুর করে।

ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বিদায় দিয়ে মফিজ বাগডোব ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এসে আবার হইচই শুরু করেন। তখন স্থানীয়রা তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশ খবর দেয়। পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা মফিজকে পিটুনি দেয়।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, মফিজ উদ্দিনকে বড়াইগ্রামে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh