আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ

সম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলায় পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) ও সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘ঘাঁটি ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।

স্থানীয় সময় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এই হামলা সম্পর্কে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আফগান সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকতিকা ও নানগারহার—এই দুই সীমান্ত প্রদেশে হামলা হয়েছে। পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে। খবর আল জাজিরার।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি টিটিপি ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ‘বেছে বেছে অভিযান’ চালানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদ, বাজৌর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশ ছিল—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ পাকিস্তানের হাতে রয়েছে। আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা ঠেকাতে তালেবান সরকারকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হন।

এরপর সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাজৌরে নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরকবাহী গাড়ি নিয়ে হামলায় ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। পাকিস্তানের রাজধানীতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বড় হামলা হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এসব হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ আফগানিস্তানেই হয়েছে।

পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, ২০২০ সালে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অঙ্গীকার অনুযায়ী তালেবান যেন আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেয়, সে বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করতে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে, যার জন্য টিটিপি ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে, টিটিপি আফগানিস্তান থেকে কার্যক্রম চালায়—যদিও গোষ্ঠীটি তা অস্বীকার করে। তালেবান সরকারও পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে।

গত অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পরবর্তী আলোচনায় কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh