আবাসন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ জানালেন মেয়র লুৎফুর রহমান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

রমজানের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতেই টাউন হল ও স্থানীয় কমিউনিটির সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান মেয়র লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস—এ সময় ইবাদত, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দান-সদকার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চর্চা করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই রমজান সবাইকে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দেবে এবং কমিউনিটির প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

বৈঠকে মেয়র জানান, আবাসন খাতে বড় ধরনের উন্নয়নই এখন কাউন্সিলের প্রধান অগ্রাধিকার। আগামী ১০ বছরে কাউন্সিলের আবাসন খাতে ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড মূলধনী বিনিয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, একসময় উষ্ণ, নিরাপদ ও মানসম্মত একটি বাসা ছিল লন্ডনের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে প্রায় অধরা স্বপ্ন। তার আগের মেয়াদকালে আবাসন খাতে ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করে কাউন্সিলের সব বাসায় আধুনিক রান্নাঘর, নতুন প্রবেশদ্বার, উন্নত বাথরুম, জানালা ও ছাদ নিশ্চিত করা হয়েছিল। সে সময় পুরো আবাসন স্টক উন্নত করা সম্ভব হয়, যা তার অন্যতম বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, সাত বছর দায়িত্বের বাইরে থাকার সময় বিরোধী প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে আবাসন খাত অবনতি ঘটে। নতুন ঘর নির্মাণ ও অতিরিক্ত ভিড় (ওভারক্রাউডিং) সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতার ফলে অনেক বাসিন্দাকে নিম্নমানের বাসস্থান ও উচ্চ ভাড়ার বেসরকারি বাজারের চাপ সহ্য করতে হয়েছে।

মেয়র বলেন, তারা সারা বছর বাসিন্দাদের দরজায় কড়া নেড়ে খোঁজখবর নেন—শুধু নির্বাচনের সময় নয়। সপ্তাহে দুই দিন সরাসরি গণশুনানিও করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে অতিরিক্ত ভিড়, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, ছাঁচ (মোল্ড) ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এই বাস্তবতা থেকেই বর্তমান প্রশাসন আবাসন খাতকে আবারও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

২০২৪ সালে কাউন্সিল নিজ উদ্যোগে আবাসন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করে বাইরের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে আবাসন পরিস্থিতি মূল্যায়নের ব্যবস্থা করে। প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়েছে; পরবর্তী ধাপে ক্রয়প্রক্রিয়া (প্রোকিউরমেন্ট) শেষে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

ঘোষিত ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের মধ্যে ২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে “ডিসেন্ট হোমস” কর্মসূচিতে। এর মাধ্যমে কাউন্সিল মালিকানাধীন প্রতিটি বাসায় আধুনিক রান্নাঘর, বাথরুম, ডাবল গ্লেজিং জানালা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী ছাদ নিশ্চিত করা হবে। এতে শীতকালে বাসিন্দারা সুরক্ষিত থাকবেন এবং গরমের খরচ কমবে।

আরও ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে—বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য ঝুঁকি মোকাবেলায়। এছাড়া ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড বড় ধরনের মেরামত ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে। গ্রেনফেল ট্র্যাজেডির শিক্ষা বাস্তবায়নে এসব বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মেয়র।

তিনি জানান, কাজ বাস্তবায়নে একক ঠিকাদারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার আটটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হবে, যাতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর মধ্যে অর্ধেক প্রতিষ্ঠান হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই)।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি জানান, চুক্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯৬ মিলিয়ন পাউন্ডের সামাজিক মূল্য সংযোজন বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র : লন্ডন বাংলা

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh