সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

টানা চার দিনের বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ডুবরার পানিতেই শেষ পর্যন্ত ডুবলো কৃষকদের বোরোধান। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ১২টি হাওর সহ উঁচু এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর পাকা বোরোধান। পানির নিচে থাকা ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় কষ্টের ফসল ঘরে তুলা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় হাজার টাকা রোজেও মিলছেনা শ্রমিক। জলাবদ্ধ জমিতে ধান কাটতে হাওরে নৌকা নিয়ে কৃষকেরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো ও মাড়াই ঝাড়াই নিয়ে চরম বিপাকে কৃষাণ কৃষাণীরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন থেকে আগাম বন্যার পূর্বাভাস জানিয়ে এপ্রিল মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে বোরোধান কাটা শেষ করতে কৃষকদের বলা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে হারভেস্টার প্রবেশ না করায় এবং হাতে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো কৃষকদের পাকা ধান কাটা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর নলুয়া, এই হাওরে অর্ধেক ধান কাটা হলেও হাওরের নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষক জিলু মিয়া বলেন, কোমর পানিতে নেমে ধান কোন শ্রমিক ধান কাটতে চায়না, টাকা বেশি দিয়ে শ্রমিক পাচ্ছি না, বাড়িতে কাটা ধান মাড়াই ঝাড়াই করা সম্ভব নয়, এখন রোদ না থাকায় কাটা ধান বিনিষ্ঠ হবে।
নলুয়ার হাওরের কৃষক জমসেদ আলী বলেন, ১০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে, হাজার টাকা রোজে এখন শ্রমিক পাওয়া যায় না, কষ্টের ফসল চোখের সামনে বিনিষ্ঠ হলো। কৃষক জাহির আলী বলেন, খেতে পাকা ধান, শ্রমিক নেই, হারভেস্টার মেশিন বেশি পানিতে ধান কাটেনা, ধান নিয়ে পেরেশানিতে আছি। বালিশ্রী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ডুবরায় ডুবছে পাকা ধান , কিছু ধান কাটাতে পেরেছি, ৭বিঘা এখনও পানির নিচে, এবছর কপাল খারাপ।
হাওর এলাকার কৃষকেরা আরও জানিয়েছেন, তাদের খলায় কাটা ধান রোদ না থাকায় পচে যাচ্ছে, গবাদিপশুর জন্য ধানের খড়কুটোও এবার সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কাওসার আহমেদ বলেন, প্রতিদিন হাওরে গিয়ে কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, হাওর এলাকায় ৬০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে, প্রতিদিন ধান কাটা হচ্ছে, হাওরের নিম্নাঞ্চলের ১০ ভাগ ধান নিমজ্জিত হয়েছে , পুরোপুরি ধান কাটা শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবো, সবাইকে কৃষকদের পাশে দাড়াতে আহবান জানিয়েছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, ইসলাম উদ্দিন বলেন, দিনে রাতে কৃষকদের চিন্তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যা গেছে তু গেছে, এখন যে অবস্থায় আছে, আসুন আমরা সকলে মিলে কৃষকদের পাশে দাঁড়াই, বিশেষ করে যুবসমাজের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, আসুন নিজ নিজ জায়গা থেকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াই, ধান বাঁচাই, পরিবর্তীতে সকলকে নিয়ে হাওর উন্নয়নে কাজ করবো।