আত্মঘাতী গোলে জয় হারাল মিশর

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। বিশ্বকাপে ইতিহাসের প্রথম জয়ের স্বপ্নও জাগিয়েছিল আফ্রিকার দলটি। তবে বিরতির পর এক আত্মঘাতী গোল সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে বেলজিয়াম।

সোমবার সিয়াটলে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে ইমাম আশুরের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বদলি হিসেবে নেমেই গোলের পরিস্থিতি তৈরি করেন রোমেলু লুকাকু।

চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে এখন পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা পেল না মিশর। তাদের রেকর্ড এখন তিন ড্র ও পাঁচ হার। ২০১৮ সালের পর এবারই আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে আফ্রিকার দলটি।

প্রথমার্ধে মিশর ছিল অনেক বেশি প্রাণবন্ত। এই সময়ে বেলজিয়াম লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় ইউরোপের দলটি।

গোটা ম্যাচে প্রায় ৫৪ শতাংশ বলের দখল ছিল বেলজিয়ামের। তারা গোলের উদ্দেশে ১৫টি শট নেয়, মিশর নেয় ১৪টি। তবে দুই দলই লক্ষ্যে রাখতে পারে তিনটি করে শট।

শুরুর দিকে দুই দলই পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে ১৯তম মিনিটে প্রথম কার্যকর আক্রমণেই গোল পেয়ে যায় মিশর। মোহামেদ সালাহর পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইমাম আশুর।

জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের প্রথম গোল। বিশ্বকাপ অভিষেকেই এমন কীর্তি গড়েন তিনি।

এদিন নিজের ৩৪তম জন্মদিনে খেলতে নেমে ইতিহাসও গড়েন মোহামেদ সালাহ। ১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপে জন্মদিনের ম্যাচে গোলে অবদান রাখা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার তিনি।

গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। ৩৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান মোস্তাফা জিকো। তবে তার নিচু শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জেরেমি ডোকু সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে ওমার মার্মুশের কঠিন কোণ থেকে নেওয়া শটও প্রতিহত করেন কোর্তোয়া। বিরতির ঠিক আগে কর্নার সামলাতে গিয়ে ভুল করলেও ভাগ্য সহায় থাকায় দ্বিতীয় গোল হজম করতে হয়নি বেলজিয়াম।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মিশর।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার কাছাকাছি পৌঁছে যায় বেলজিয়াম। ৫৩তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের ফ্রি-কিক পোস্টে আঘাত হানে। দুই মিনিট পর অপর প্রান্তে সালাহর হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।

পরের কয়েক মিনিটে দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি।

৬৬তম মিনিটে বদলি নেমেই ম্যাচে প্রভাব রাখেন রোমেলু লুকাকু। ডান দিক থেকে তমাস মুনিয়েরের পাস ধরে শট নিতে গেলে তাকে থামাতে স্লাইড করেন দুই মিশরীয় ডিফেন্ডার। বল মোহামেদ হানির পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

চোটের কারণে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবের হয়ে খুব কম খেললেও বিশ্বকাপ দলে লুকাকুকে রেখেছিলেন বেলজিয়ামের কোচ। প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করার পর এবার বিশ্বকাপেও মাঠে নেমেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা।

এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের ৩২৫ মিনিটের গোলখরাও শেষ হয়। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ২৪৪ মিনিটের গোলখরার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যায় তারা।

৮৩তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত বেলজিয়াম। বক্সের ভেতরে মেচেলের হেড দারুণভাবে প্রতিহত করেন মিশরের গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর সুযোগ পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি লুকাকু।

বাকি সময়ে আর কোনো দলই ব্যবধান গড়ে দিতে পারেনি। ফলে ১-১ গোলের ড্রয়ে এক পয়েন্ট নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হলো মিশর ও বেলজিয়ামকে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh