সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

প্রতিপক্ষের চাপ সামলে দারুণ এক আক্রমণে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব। সেই ধাক্কা সামলে নিতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড় তোলে উরুগুয়ে। অনেক সুযোগ হারানোর পর তারা কাঙ্ক্ষিত গোল পেলেও ব্যবধান গড়ে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ।
মঙ্গলবার ভোরে মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে আল আমরির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে সমতা ফেরান মাক্সি আরাউহো।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় নিজেদের অর্ধেই কোণঠাসা হয়ে খেলেছে সৌদি আরব। এই অর্ধেই প্রতিপক্ষের তুলনায় ২০টি বেশি শট নেয় উরুগুয়ে। তবে আক্রমণের ঝড় তুলেও এশিয়ার দলটির রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের প্রতিরোধ একবারের বেশি ভাঙতে পারেনি তারা।
অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহামেদ আল-ওয়াইস। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলের জন্য মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন তিনি।
গত বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিল সৌদি আরব। এবারও আরেকটি স্মরণীয় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
গোটা ম্যাচে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বলের দখলে ছিল উরুগুয়ের। তারা গোলের উদ্দেশে ২৮টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে সৌদি আরবের সাতটি শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে।
ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভালো একটি সুযোগ তৈরি করে উরুগুয়ে। মাক্সি আরাউহোর শট সোজাসুজি হলেও গতির কারণে সেটি কেবল পাঞ্চ করে বাইরে পাঠান আল-ওয়াইস।
আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর প্রায় আধা ঘণ্টা টানা চাপ ধরে রাখে উরুগুয়ে। তবে এই সময়ে সৌদি গোলরক্ষককে তেমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।
এরপর হঠাৎই পাল্টা আক্রমণে ওঠে সৌদি আরব। টানা কয়েক মিনিট প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রেখে অবশেষে গোলের দেখা পায় দলটি।
৩৮তম মিনিটে আল আমরির জোরালো শট দৃঢ়তায় ঠেকিয়ে দেন ফার্নান্দো মুসলেরা। তবে তিন মিনিট পর আর দলকে রক্ষা করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
একটি স্থির বলের পরিস্থিতিতে হাসান আল তামবাক্তির জোরালো হেড প্রথমে প্রতিহত করলেও বল হাতে রাখতে পারেননি মুসলেরা। ফিরতি বলে দ্রুত এগিয়ে এসে আলগা বল জালে পাঠান আল নাসরের ডিফেন্ডার আল আমরি।
বিরতির পর গোলের জন্য যেন মরিয়া হয়ে ওঠে উরুগুয়ে। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে।
৬০তম মিনিটে অসাধারণ এক সেভ করেন আল-ওয়াইস। দূর থেকে মানুয়েল উগার্তের নেওয়া জোরালো শটে ঝাঁপিয়ে হাত ছোঁয়ান তিনি। পরে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অবশেষে ৮০তম মিনিটে সমতায় ফেরে উরুগুয়ে। ফেদেরিকো ভিনাসের হেড প্রথমে ঠেকান আল-ওয়াইস। তবে ফিরতি বল ডি-বক্সের বাঁ পাশে চলে যায় মাক্সি আরাউহোর কাছে। দুরূহ কোণ থেকেও জোরালো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন এই লেফট-ব্যাক।
এরপরও জয়ের জন্য টানা আক্রমণ চালিয়ে যায় উরুগুয়ে। নিয়মিত সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু সৌদি গোলরক্ষককে আর পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দের জোরালো শটও দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন আল-ওয়াইস। তার অনবদ্য নৈপুণ্যেই শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিশ্চিত করে সৌদি আরব।