ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ

শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি। ২-১! ব্রাজিল কি একটু আশা দেখছিল? আর আধ মিনিট হলে কি সমতা আসবে? নরওয়ের বুকেও কি একটু শঙ্কা ভর করে বসেছিল! হাজার হোক, ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্তের গন্ধ পাইয়ে দিয়েছিল যে! তবে সব শঙ্কা উবে গেল একটু পরই। রেফারি তিন বার ফুঁ দিলেন বাঁশিতে। নরওয়ের জয় নিশ্চিত হলো সঙ্গে সঙ্গেই।

গড়া হয়ে গেল ইতিহাসও। কখনো বিশ্বকাপের শেষ ষোলর চৌকাঠ পেরোতে না পারার আক্ষেপটা ঘুচে গেল নরওয়েজিয়ানদের। সঙ্গে একটা রেকর্ডও অক্ষত রাখা হয়ে গেল তাদের। এতদিন নরওয়ের বিপক্ষে কখনো জিততে পারেনি ব্রাজিল। আজকের হারের পর সেই রেকর্ড আরও লম্বা হলো।

বলা হয়ে থাকে মর্নিং শো’জ দ্য ডে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই যেন ব্রাজিলকে তার ঝলক দেখিয়েছিল নরওয়ে। বল জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন বের্গা। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।

এরপর ব্রাজিল পায় পেনাল্টি। মাতেউস কুনিয়াকে ফাউল করা হয় নরওয়ের বক্সে। শুরুতে রেফারি পেনাল্টি দেননি। পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন তিনি। পেনাল্টি নিতে আসেন ব্রুনো গিমারেস। কিন্তু তার শট ডান দিকে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ড।

সে পেনাল্টি মিসের পরও ব্রাজিল মনোবল হারায়নি। একটু পরপর সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর দৃশ্যপটে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার কোণাকুণি শটও দারুণভাবে রুখে দেন নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষদিকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। কাসেমিরোর বাড়ানো লম্বা বলে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি তাতে।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন এনদ্রিক। নেমেই তিনি একটি বড় সুযোগ পান। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল জালে জড়াতে পারেননি। বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস, আর দ্বিতীয়ার্ধে এই মিস… এই দুই মিসের খেসারতই দিতে হয় সেলেসাওদের।

৮০ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। আন্দ্রেয়াস শেলডারুপের ক্রস থেকে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। এরপর নিজেদের বক্সের বাইরে মার্টিন ওডেগার্ডকে ফাউল করে বসেন নেইমার। এই ফাউলের জন্য তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।

শেষ দশ মিনিটে আবারও গোল করেন হালান্ড। বক্সের বাইরে থেকে তার শট আলিসন বেকারের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। এতে স্কোরলাইন হয়ে যায় ২-০!

তবে ম্যাচের একদম শেষদিকে একটি পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। বক্সের ভেতর কাসেমিরোকে ফাউল করেন নরওয়ের খেলোয়াড় অস্টিগার্ড। এই পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। ক্যারিয়ারের ৮০তম গোলটি করেন তিনি। তবে সেটা ব্রাজিলের জন্য যথেষ্ট ছিল না। সেলেসাওরা বিদায় নেয় এই পেনাল্টির একটু পরই। নরওয়ে চলে যায় শেষ আটে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh