সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় কিছু হাতবোমা ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বনগাঁও ইউনিয়নেও একই ধরনের একটি বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
সাভার মডেল থানার সাধাপুর এলাকার গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা একটি প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয় বলে সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. ইমরান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়রা একটি ড্রাম দেখতে পান। ড্রামের ভেতরে কিছু কাপড়, একটি কোরআন শরিফ এবং টেপে প্যাঁচানো একটি প্রেসার কুকার ছিল। রাতভর ড্রামটি সেখানেই পড়ে ছিল। বুধবার সকালে প্রেসার কুকারের মুখ দিয়ে টেপ প্যাঁচানো বৈদ্যুতিক তার বের হয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
এসআই ইমরান বলছেন, পরে স্থানীয় লোকজন সাভার মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানটি ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের কৌতূহলী লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে আইইডি (বোমাসদৃশ বস্তু) বলে মনে হচ্ছে। ঝুঁকিমুক্তভাবে এটি নিষ্ক্রিয় করতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর সেটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩১ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুর বাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে ব্যাগ থেকে ‘প্রেসার কুকার’ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার রাতে শ্যামপুর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে কিছু হাতবোমা ও বোমা তৈরির উপকরণসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ। পাশাপাশি দুটি এলাকায় বোমা ও বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব বস্তু ফেলে রেখে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে নেমেছে।