সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে অধ্যক্ষ পদ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন জটিলতা। একই কলেজে দুজনকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গভর্নিং বডির নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদুল হাসানকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মূলত গভর্নিং বডির নিয়োগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেষণে নিয়োগ এই দ্বৈত নির্দেশনার কারণেই কলেজটিতে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের এক শিক্ষকের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১ জুন কলেজটির গভর্নিং বডি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদুল হাসানকে এক বছরের চুক্তিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু গত আগস্ট মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুফিয়া খাতুন নামের আরেকজনকে প্রেষণে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। সরকারি নির্দেশে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ হলেও শহীদুল হাসান দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় এই দ্বৈত-অধ্যক্ষ সংকটের সৃষ্টি হয়।
দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে সুফিয়া খাতুন বলেন, “আমি সরাসরি সরকারি নির্দেশে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়ে কলেজে এসেছি। কিন্তু এখানে নানা অজুহাত দেখিয়ে আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে, অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা শহীদুল হাসান জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নিজেও বিব্রত। তিনি বলেন, “আমি গভর্নিং বডির সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টিও তাকে জানিয়েছি। দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে ওপর থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাইনি; পেলেই চলে যাব।”
সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে ‘অবৈধ প্রিন্সিপাল, মানি না মানি না’, ‘আওয়ামী লীগের দালাল, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ জানান, গভর্নিং বডির সঙ্গে শহীদুল হাসানের চুক্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত ছিল-সরকার যদি কাউকে এই পদে দায়িত্ব দেয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুফিয়া খাতুনকে নিয়োগ দেওয়ার পর শহীদুল হাসানের চুক্তি বাতিল হয়ে গেলেও তিনি পদ ছাড়ছেন না। রহমতুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি। কলেজের দুজন অধ্যক্ষ এক রুমে বসছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দুজনই অংশ নিচ্ছেন। এর দ্রুত একটা বিহিত হওয়া প্রয়োজন।”
কলেজের এই উদ্ভূত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর থেকে একটি জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কলেজের দুই অধ্যক্ষ, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, শিক্ষকমণ্ডলী এবং একজন অভিভাবক প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলমান ছিল।