জামায়াতকে গুপ্ত বলার আগে ১৯৯১ ও জোটের রাজনীতি মনে করুন: পরওয়ার

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেছেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল, চারদলীয়, ১৮ দলীয় ও ২০ দলীয় জোটে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে—তখন কি জামায়াত ‘গুপ্ত’ ছিল?

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন পরওয়ার। তিনি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ড বাতিল ও অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। পরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ‘গুপ্ত’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পরওয়ার বলেন, গত ২০-২২ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজপথে ছিল।

‘কর্মসূচি দিয়েছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, জামায়াত-শিবির ঝাঁপিয়ে পড়ে রাজপথে শহীদ হয়েছে, বলেন তিনি।

১৯৯১ সালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের জন্য বিএনপি নেতারা তৎকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

‘তখন মনে ছিল না এরা গুপ্ত? তখন বলেননি কেন?’ প্রশ্ন তোলেন পরওয়ার।

আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পরওয়ার দাবি করেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। মেজর আখতারুজ্জামান কারোর গায়ে হাত তোলেননি, কাউকে তিনি নাজেহাল করেননি, বলেন তিনি।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার জন্য দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার প্রসঙ্গ তুলে পরওয়ার বলেন, এর মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে।

তার দাবি, একজন সিনিয়র নাগরিক ও যাত্রী হিসেবে সেই অব্যবস্থাপনার জন্য কৈফিয়ত চাওয়া ও প্রতিবাদ করার অধিকার আখতারুজ্জামানের ছিল। এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, যোগ করেন পরওয়ার।

আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হেলমেট পরানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, আখতারুজ্জামান স্বেচ্ছায় ডিবির সঙ্গে গিয়েছেন এবং পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি নন।

‘আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ ডাকাত, খুনি? উনি কি চুরি করেছেন যে উনি পালিয়ে যাবেন?—প্রশ্ন করেন পরওয়ার।

তিনি বলেন, যারা অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার করলেন না, নিরপরাধ একটা মানুষকে রিমান্ডে নিলেন।

জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির বর্তমান অবস্থানকে দলটির অতীত রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে পরওয়ার বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতের তৎকালীন নেতাদের বিচারের সময় খালেদা জিয়া সভা-সমাবেশ ও লং মার্চে তাদের মুক্তির দাবি করেছিলেন।

আপনার পিতা এবং মা যে কথা কোনোদিন বলেনি, আপনি কি তাদের চেয়ে বিচক্ষণ নেতা হয়ে গেলেন?-প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন তিনি।

জামায়াতকে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত বলারও প্রতিবাদ করেন পরওয়ার। তবে একাত্তরে জামায়াতের তৎকালীন অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটির নেতাকর্মীরা অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন—এটি সত্য।

‘একাত্তরে সেই সময়ে যারা জামায়াতে ইসলামী করতেন, ভারতীয় আগ্রাসন থেকে বাঁচার জন্য অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে তাদের ভূমিকা ছিল—এ কথা ঠিক, বলেন তিনি।

কিন্তু জামায়াতে ইসলামী কখনো গণহত্যায় জড়িত হয়নি, বলেন তিনি।

স্বাধীনতার কয়েক দশক পর আইন পরিবর্তন করে জামায়াতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধের মামলায় জড়ানো হয়েছিল এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

জামায়াতকে ‘গুপ্ত’, ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ও ‘গণহত্যাকারী’ বলার মাধ্যমে বিএনপি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বয়ান অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন পরওয়ার।

‘চব্বিশের বিপ্লবের আগে তো আপনারা এই কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পরে এখন আপনারা আওয়ামী লীগের ভাষায় আমাদেরকে রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী বলছেন, বলেন তিনি।

হাসিনা আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের কথার খুব মিল, যোগ করেন তিনি।

বিএনপির কোনো এমপি সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জানালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না বলেও মন্তব্য করেন পরওয়ার।

‘শুধু নামের পার্থক্য, চরিত্র এক। রাজনৈতিক বয়ান দিল্লি যা শিখায়, আপনারা সেই বয়ান পেশ করছেন, বলেন তিনি।

সেইসঙ্গে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্লেষণে জনগণ বিচার করবে, ঠিক বেঠিক সে ফয়সালা জনগণের উপরে ছেড়ে দেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh