হাম নিয়ন্ত্রণে ফের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন, তালিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ


হামের প্রকোপ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে না আসায় সারা দেশে নতুন করে ‘বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছে সরকার। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু এবং ১০ লাখ নতুন করে টিকাদানের বয়সে পৌঁছানো শিশু।

তবে এই কর্মসূচির পরিসংখ্যান, মাঠপর্যায়ে বাদ পড়া শিশুদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া এবং টিকার নির্ধারিত বয়সসীমা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর শঙ্কা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শতভাগ বা তারও বেশি টিকাদান সম্পন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল। তবে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির (এনভিসি) চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত হলে মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেত এবং প্রকোপ কমত, যা বাস্তবে ঘটেনি।

অন্যদিকে, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) মাত্র তিন দিনের সময় বেঁধে দিলেও, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা তৈরির কোনো সুনির্দিষ্ট তৎপরতা দেখা যায়নি। ঢাকা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নওগাঁর মতো এলাকাগুলোর অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ইপিআই কর্মীরা তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কারণ হামে আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশের বয়স ৬ মাসের কম এবং ৫ বছরের বেশি, যারা বর্তমান কর্মসূচির আওতার বাইরে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারীর মতে, দেশে যে পরিমাণ ইমিউনিটি ঘাটতি রয়েছে, তা মেটাতে ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী অন্তত ৬ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। ২০১৪ সালে এ ধরনের একটি বিস্তৃত ক্যাম্পেইন সফলভাবে পরিচালিত হয়েছিল।

চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাব মতেই, গত ২ অক্টোবর পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ জনেরও বেশি মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ৬ মাসের কম ও ৫ বছরের বেশি বয়সীদের সুরক্ষায় নিবিড় গবেষণা ও তাদের টিকার আওতায় না আনলে এই প্রাদুর্ভাব থামানো কঠিন হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh