সুনামগঞ্জে মসজিদের মাইকে ডেকে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ

রাতে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সকালে যাঁর যা আছে, তা–ই নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য। ঘোষণার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। রাতেই সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশ। দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু কাজ হয়নি। আজ বুধবার দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতেই শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সুনাগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। বেলা দুইটার দিকে সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আছে। পুলিশ মোতায়েন আছে ঘটনাস্থলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে মধ্য তাহিরপুর এলাকার মাঠে ক্রিকেট খেলছিল একদল কিশোর। তখন পাশের সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে একটি ইজিবাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন এক চালক। একপর্যায়ে মাঠ থেকে বল গিয়ে পড়ে ইজিবাইকের সামনের কাচে। এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর (ময়মনসিংহ হাটি) গ্রামের ইজিবাইকচালকের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয় বীরনগর গ্রামের এক কিশোরের। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন বীরনগর গ্রামের এক যুবককে তাহিরপুর বাজারে মারধর করেন মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দুই ব্যক্তি। এর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে মধ্য তাহিরপুর এবং বরীনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবার দুই গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে তাহিরপুর বাজারে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সকালে যাঁর যা আছে, তা নিয়ে মাঠে থাকার জন্য। মাইকের এই ঘোষণার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ রাতেই সেখানে অবস্থান নেয়। আজ সকালে লোকজনও সেখানে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু উভয় পক্ষের লোকজন বেশি হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে এত বড় ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মীমাংসা করতে পারতেন। সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়ায় সংঘষের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তাঁরা খবর পেয়ে গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। আজ সকালে দুই পক্ষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এর এক পর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি থমথমে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh