টঙ্গীতে আগুনের পর বন্ধ ঘোষণা ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ

গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণের পর ডাম্পিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে। পরে ওই কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানা ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাঈদের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি কারখানার গেটে টাঙানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে টঙ্গীর চেরাগ আলীতে ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানিয়েছিলেন, সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পান তারা।

খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের আরও ১৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।

কারখানায় থাকা রাসায়নিক ও ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা অ্যালুমিনিয়াম পেপারের নিচে থাকা রাবারের কারণে আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।

একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি অগ্নিনির্বাপণের কাজে যোগ দেয়।

সবার চেষ্টায় বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। পরে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে পুরোপুরিভাবে আগুন নিভাতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

আগুনে কারখানার যন্ত্রপাতি ও মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাসায়নিকের ধোঁয়ায় এক শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, “আমরা বুধবার রাত ১১টার দিকে ডাম্পিং কাজ শেষ করে দিয়েছি।”

তিনতলার ছাদের শেড থেকে উৎপত্তি

ঔষধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের টঙ্গীর কারখানায় তিনতলা ভবনের ছাদে থাকা শেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টঙ্গী স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, কারখানায় তিনতলা ভবনের ছাদে থাকা শেড থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়েছে। পরে তা পাশের লাগোয়া পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

সিনিয়র অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, ডাম্পিং শেষ করে রাত সাড়ে ১০টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেখানে নতুন করে কোনো আশঙ্কা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আগুনের উৎপত্তিস্থল জানা গেলেও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেও শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

তবে কারখানার ফটকে জড়ো হওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh