আইএমএফের ঋণে শর্ত থাকবে, মানছেন অর্থমন্ত্রী

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ আমলে আইএমএফের সঙ্গে করা ঋণ চুক্তির শর্ত ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে না হওয়ায় তা বাতিল করেছিল বিএনপি সরকার, কিন্তু নতুন ঋণের আলোচনাতেও যে শর্তের বেড়াজালে পড়তে হবে, তা মানছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এগারো দিন আগে তিনি বলেছিলেন, শর্ত মেনে আইএমএফের অর্থায়নের ওপর বিএনপি সরকার ‘নির্ভর করতে চাইছে না’। কিন্তু এখন তিনি বলছেন, নতুন ঋণের আলোচনাতেও শর্ত আসবে, সেসব শর্ত ‘পূরণও হবে’।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় বৃহস্পতিবার আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

ঋণ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, শর্ত তো থাকবে। শর্ত পূরণ হবে। আবার কিছু কিছু দুই পক্ষ থেকে আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সেগুলো কোনো সমস্যা না। সো ফার আমাদের যে পার্টনারশিপ, শুধু আইএমএফ না, আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ সব মাল্টিল্যাটারাল বডির সাথে যে পার্টনারশিপ, আমরা সবাই একসাথে কাজ করব। পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করব এবং এটা ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।

আইএমএফের তরফে বাংলাদেশের অর্থনীতির কোন কোন বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে, তাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ওদের কিছু অবজারভেশন আছে কিছু কিছু বিষয়ে। তো সেই অবজারভেশনের ম্যাক্সিমামের সঙ্গে আমরা একমত। অনেকগুলো আছে ব্যাংকিংয়ের উপর আছে, ট্যাক্স জিডিপির উপর আছে। অবজারভেশন থাকাই স্বাভাবিক, আমাদেরই তো অবজারভেশন আছে। তো অবজারভেশনগুলো কোনো সমস্যা নাই। অবজারভেশন ইতোমধ্যে অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আর বাকিগুলো আমরা আলোচনা করব।

আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ঠিক আট দিন আগে ৪ অক্টোবর ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, আইএমএফ টাকা দেবে, বিশ্ব ব্যাংক টাকা দেবে–এটা ভুলে যান। আমি আইএমএফের প্রোগ্রাম ক্যানসেল করে দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। তাদের শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

অর্থমন্ত্রী এও বলেছিলেন, আইএমএফ এর আর কোনো শর্ত ‘মানবে না’ বাংলাদেশ।

আইএমএফের ঋণ মানেই শর্তের বেড়াজাল। সেখানে বড় অংশ জুড়ে থাকে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের সুপারিশ। এছাড়া জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমানো, কর ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে কর বসানোর চাপ থাকে। পাশাপাশি সরকারি চাকুরেদের বেতন বৃদ্ধির ব্যয় সঙ্কুলান নিয়েও সংস্থাটির প্রশ্ন ছিল।

অর্থমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, আইএমএফের ঋণ চুক্তি বাতিল করে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। দাতা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

সেই বক্তব্যের দিন দশেক পর তার ওই অবস্থান থেকে সরে আসার বার্তা মিলল ব্যাংককে। তবে সেখানে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, তা চলমান থাকবে আরও কয়েক মাস।

মন্ত্রী বলেন, এটা তো একটা প্রসেস। সুতরাং এই আলোচনার মাধ্যমে সেটা সমাধান করা হবে। আমি আশা করছি, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক, যে মাল্টিল্যাটারাল বডিগুলোর সাথে আমাদের যে কার্যক্রম, সেটা সঠিক পথে চলবে, ভালোভাবে চলবে। এবং আমরা একসাথে ইন পার্টনারশিপ আমরা কাজ করতে পারব।

বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের ‘অগ্রগতি’ নিয়ে আইএমএফ ‘সন্তুষ্ট’ বলে দাবি করেন আমির খসরু।

তিনি বলেন, তারা মনে করে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভালোই হয়েছে। এবং বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে, আমরা যে ইনহেরিট করেছি যে অর্থনীতি এবং বর্তমান বিশ্বেও যে ওয়ার, মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের এই পর্যন্ত প্রগ্রেস কার্যক্রম সম্বন্ধে তারা সন্তুষ্ট আছে।

আইএমএফ বাংলাদেশের সংস্কার বাস্তবায়ন কৌশলের ‘ক্রেডিবিলিটি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, সে প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রেডিবল স্ট্র্যাটেজি না থাকলে তো আর আলোচনা এত দূর আসত না। ক্রেডিবল স্ট্র্যাটেজি আছে বলেই তো আলোচনা এতটুকু এগোচ্ছে। এবং সামনের দিকে পার্টনারশিপের মাধ্যমে, অ্যাজ এ পার্টনার, আমরা বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh