জলবায়ু পরিবর্তনে দ. এশিয়ার ৪ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে: জাতিসংঘ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তবে প্রযুক্তি ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার প্রধান অ্যামি পোপ।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এএফপিকে তিনি এ কথা বলেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরা মানুষের ঘরবাড়ি এবং কৃষিজমির জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যামি পোপ। নয়াদিল্লি সফরকালে তিনি এ কথা বলেন।

উদাহরণ হিসেবে গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই সময় পাহাড় ও হিমবাহ ধসে প্রাণঘাতী বন্যার সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সেখানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল আইওএম।

আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ৪ কোটি ৫ লাখ পর্যন্ত মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।

আইওএমের মহাপরিচালক পোপ বলেন, মানুষ যখন খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না, গবাদিপশুকে খাওয়াতে পারে না, তখন তাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে অনেকেই নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

পোপ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতের মতো দেশগুলোতে গ্রামাঞ্চল ছেড়ে শহরে চলে আসার প্রবণতা বাড়ছে।

তিনি বলেন, তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে মানুষ শহরাঞ্চলে চলে যাচ্ছে।

অ্যামি জানান, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি অনেক বেশি তীব্র। এ অঞ্চলে বিপুল জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদের কারণে অনেক জনগোষ্ঠীই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করে অ্যামি পোপ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মানুষকে প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এখনো অপর্যাপ্ত।’

তিনি বলেন, একটি মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শত শত কোটি ডলারে পৌঁছায়। সে তুলনায় অনেক কম অর্থ বিনিয়োগ করে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

অ্যামি পোপ বলেন, এসব সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে বৈধ অভিবাসন।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষ জীবিকা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে বিদেশের শ্রমবাজারে কর্মীর ঘাটতি পূরণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের নিরাপদ ও বৈধ পথও নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যথায়, বিদেশে চাকরির ভুয়া প্রস্তাবসহ বিভিন্ন উপায়ে মানব পাচারকারী ও অবৈধভাবে অভিবাসী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত চক্রের শোষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh