৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

এমন এক সময় এ তথ্য সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ভিসা বাতিলের সংখ্যা বেড়েছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট সর্বশেষ ভিসা বাতিল করা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছিল পররাষ্ট্র দপ্তর। তখন জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শুরুর পর থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্বিচার অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষত জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বহিষ্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর এজন্যই বাতিল করা হচ্ছে একের পর এক ভিসা।

অধিকারকর্মীদের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্বিচার অভিযানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না। মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ছাড়া এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষত জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে দ্রুতগতিতে’ বেশি বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

টমি পিগট সতর্ক করে আরও বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সময় কোনো বিদেশি আইন ভাঙলে, প্রতারণা করলে কিংবা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করলে; তাঁর প্রতি এখনকার প্রশাসন কোনো সহনশীলতা দেখাবে না।

এ ছাড়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশিদের ভিসা বাতিল করা ছাড়াও মার্কিন প্রশাসন অভিবাসনপ্রত্যাশী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে।

অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতারণার কিছু ঘটনাকে সামনে এনে মিনেসোটার সোমালি-মার্কিনদের মতো অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনও আরও কঠিন করে তুলেছে। আর এ জন্য কর্মজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভিসায় উচ্চ ফি আরোপ করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh